কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় গংগাহাট সীমান্তে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে এক গুলির শব্দ শোনা যায়। বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এর সিপাহী মো. নাসিম উদ্দিন, ২৩ বছর বয়সী, গংগাহাট বর্ডার আউট পোস্টে টহলরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন।
মৃত্যুর সময় তার সেবা রাইফেল থেকে গুলি বেরিয়ে তার বুকে আঘাত লেগেছিল বলে সূত্রে জানা যায়। গুলির শব্দ শোনার পর নিকটবর্তী টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্যারেজের পেছনে শোয়া নাসিম উদ্দিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পায়। তাকে তৎক্ষণাৎ ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসক তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
ফুলবাড়ী থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে শুক্রবার সকাল প্রায় দশটা অর্ধেকের দিকে কুড়িগ্রাম মেডিকেল অটপসি (মর্গ) এ পাঠায়। মর্গে গিয়ে মৃতদেহের উপর প্রাথমিক পরীক্ষা চালিয়ে আত্মহত্যার সম্ভাবনা যাচাই করা হয়।
বিজিবি ও থানা সূত্রে জানা যায়, নাসিম উদ্দিনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তে তিনি নিজের রাইফেল থেকে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এমন ধারণা রয়েছে। এই ভিত্তিতে পুলিশ ও বিজিবি উভয়ই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা সন্দেহে চিহ্নিত করেছে।
ফুলবাড়ী থানার ওসিআই মাহমুদ হাসান নাইম জানান, “বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিপাহী নিজ সেবা রাইফেলের গুলিতে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মরণোত্তর পরীক্ষা মর্গে সম্পন্ন হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, তদন্তের সব ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে।
মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া চালু হবে। যদি আত্মহত্যা নিশ্চিত হয়, তবে অপমৃত্যু মামলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। অন্যথায়, গুলির উৎস ও ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানের জন্য অতিরিক্ত তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্ডার গার্ডের গংগাহাট আউট পোস্টে টহলরত সময়ে গুলির শব্দ শোনা যায়। গুলির শব্দের উৎস নির্ণয়ের জন্য পোস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাইফেল রক্ষণাবেক্ষণ ও গুলির দিকনির্দেশনা ইত্যাদি বিষয়ক প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, সীমান্তে কাজ করা অন্যান্য সশস্ত্র সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজিবি কর্তৃপক্ষের মতে, সিপাহী নাসিম উদ্দিন ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের বাবুল মন্ডলের ছেলে। তার পরিবারকে ঘটনাস্থলে জানানো হয়েছে এবং শোকসন্ধ্যায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই ঘটনার পর, কুড়িগ্রাম জেলার নিরাপত্তা বিভাগ ও গ border security forces (বিজিবি) সমন্বয়ে একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গুলির ঘটনার প্রকৃতি, রাইফেল ব্যবহারের পদ্ধতি ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘন ইত্যাদি বিষয় বিশ্লেষণ করবে।
অধিকন্তু, গংগাহাট সীমান্তে পূর্বে ঘটিত অনুরূপ ঘটনাগুলোর রেকর্ড ও তদন্তের ফলাফলও পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। এভাবে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রক্রিয়া নির্ধারণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
সর্বশেষে, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বর্ডার গার্ডের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, গুলির ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশের পরই তদন্তের চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে। এই সময়ে মিডিয়া ও সাধারণ জনগণকে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত অনুমান করা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।



