গাম্বিয়া, ২ জানুয়ারি (বিএসিএ) – গাম্বিয়ার নর্থ ব্যাংক অঞ্চলের জিন্যাক গ্রাম সমুদ্রের কাছে রাতারাতি একটি নৌকা ডুবে কমপক্ষে সাতজনের মৃত্যু ঘটেছে এবং শতাধিক যাত্রীর অবস্থান অনিশ্চিত। এই নৌকায় প্রায় দুইশো মাইগ্র্যান্ট ছিলেন, যারা ইউরোপের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সমুদ্রে রওনা হয়েছিল। দুর্ঘটনা বুধবার মধ্যরাতে ঘটেছে এবং পরে নৌকাটি বালুকাময় একটি ডিঙিতে আটকে থাকা দেখা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, নৌকাটি উল্টে যাওয়ার পর দ্রুত পানিতে ডুবে যায়।
গাম্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে, ডুবি নৌকাটি ডুবার পরই উদ্ধারকর্মী দল নৌকা অনুসন্ধান শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৯৬ জন যাত্রী নিরাপদে তোলা হয়েছে, তবে এখনও অনেকে নিখোঁজ। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দশজন গুরুতর অবস্থায় রয়েছে এবং তারা জরুরি চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।
ডুবে যাওয়া নৌকাটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, যা আফ্রিকান মাইগ্র্যান্টদের ইউরোপে পৌঁছানোর অন্যতম জনপ্রিয় রুট। এই সমুদ্রপথটি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এটিকে বেছে নেয়। ২০২৪ সালে মাত্র ক্যানারিতে প্রায় ৪৭,০০০ জন মাইগ্র্যান্ট পৌঁছেছে, আর স্পেনের অ-সরকারি সংস্থা ক্যামিনান্দো ফ্রন্টেরাসের তথ্য অনুযায়ী, এই রুটে ৯,০০০ এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর গাম্বিয়ার নৌবাহিনী তৎক্ষণাৎ একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালু করে। এই অভিযানে কয়েকটি নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি স্থানীয় মাছ ধরা নৌকা অংশগ্রহণ করেছে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, তারা ডুবি নৌকার অবস্থান নির্ণয় করে দ্রুত উদ্ধারকর্মে লিপ্ত হয়েছে।
অধিকাংশ শিকার গাম্বিয়ার নাগরিক নয়, এবং তাদের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া এখনও চলমান। মৃত সাতজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, এবং তাদের পরিবারকে জানানো হবে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে কিছুজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর, তাই তারা গাম্বিয়ার প্রধান হাসপাতালের তীব্র সেবায় পাঠানো হয়েছে।
গাম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাইগ্র্যান্টদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পারাপার রুট হিসেবে কাজ করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন উত্তর আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে অনিয়মিত মাইগ্রেশন কমাতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিগুলো মূলত ভূমি ও সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দিকে লক্ষ্য রাখে, তবে গাম্বিয়ার মতো পশ্চিম আফ্রিকান দেশগুলো এখনও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র রুট হিসেবে রয়ে গেছে।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “গাম্বিয়ার উপকূলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ইউরোপীয় মাইগ্রেশন নীতি এবং আফ্রিকান দেশগুলোর সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।” তিনি আরও বলেন, “অধিকতর সমন্বিত অনুসন্ধান ও ত্রাণ ব্যবস্থা গঠন না করা পর্যন্ত এ ধরনের মানবিক বিপর্যয় পুনরাবৃত্তি হতে পারে।”
গাম্বিয়ার সরকার এখনো পুরোপুরি জানাতে পারেনি কতজন মাইগ্র্যান্টের পরিচয় গাম্বিয়ার নাগরিক, তবে তারা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় শিকারদের পরিবারকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, গাম্বিয়ার নৌবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে অতিরিক্ত নৌকা ও বিমান মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে।
এই ঘটনাটি আফ্রিকান মহাদেশ থেকে ইউরোপে মাইগ্রেশন প্রবাহের ঝুঁকি এবং মানবিক দিককে আবারও উন্মোচিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রতিক্রিয়া দাবি করে।



