রিপন মন্ডল সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ফলে বাংলাদেশি ক্রিকেটে বিশ্বকাপ দলে তার স্থান নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে। গত মাসে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপের শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহক হিসেবে তিনি নজর কাড়েন, আর একই সময়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) তার প্রথম দুই ম্যাচে দেখানো বোলিং শৈলী নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপের শেষ পর্যায়ে তিনি ডেথ ওভারে ধারাবাহিকভাবে ইয়র্কার ব্যবহার করে ব্যাটসম্যানকে সীমাবদ্ধ করেন। তার গতি ও স্যুইং সংমিশ্রণকে প্রশংসা করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটধারী হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পান, যা তার পেসার হিসেবে সম্ভাবনা প্রমাণ করে।
বিপিএল‑এ রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে প্রথম ম্যাচে তিনি মাত্র তেরো রানে চারটি উইকেট নেন, যা তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স। নতুন বল ও পুরোনো বল দুটোই ব্যবহার করে তিনি ধারাবাহিকভাবে লাইন ও লম্বা বজায় রাখেন, ফলে ব্যাটসম্যানের আউট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
পরের ম্যাচে, রঙপুর রাইডার্সের বিপক্ষে, শুরুর দিকে তিনি কিছুটা ধীরগতি দেখালেও ডেথ ওভারে ফিরে এসে রঙপুরকে মাত্র ছয় রান দিতে সক্ষম হন। শেষের ওভারগুলোতে তার বোলিং রঙপুরের স্কোরকে টাই‑গেমে নামিয়ে আনে, যা ম্যাচের ফলাফলকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করে।
সুপার ওভারে আবারও তিনি ছয় রানই দিতে পারলেন, ফলে রাজশাহী দল সহজেই লক্ষ্য অর্জন করে। ক্যাপ্টেন শান্তের মন্তব্যে তিনি রিপনের আত্মবিশ্বাস ও শান্ত স্বভাবকে প্রশংসা করেন, বলেন যে গুরুত্বপূর্ণ ওভারগুলোতে তার স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলকে দরকার।
রঙপুরের ব্যাটিং কোচ আশরাফুলও রিপনের বোলিংকে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নির্বাচকরা বর্তমানে এই তরুণ পেসারের দিকে নজর দিচ্ছেন এবং তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
একই সময়ে রাজশাহী কোচ হান্নান সরকারকে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি রিপনের নাম তুলে ধরেন এবং জিজ্ঞাসা করেন, “রিপনকে কি বিশ্বকাপ দলে রাখা উচিত?” এই প্রশ্নটি মিডিয়া সম্মেলনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাচকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ডেথ ওভারে রান কমাতে রিপনের দক্ষতা সীমিত‑ওভার ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার নিয়মিত ইয়র্কার এবং কম ইকোনমি রেট তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি শক্তিশালী বিকল্প করে তুলতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় ভারসাম্য, ফিটনেস ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের পরবর্তী ম্যাচে তারা ঢাকা ডিভিশনের মুখোমুখি হবে, যেখানে রিপনের পারফরম্যান্স আবারও নজরে আসবে। তার সাম্প্রতিক উইকেট শিকার এবং ডেথ ওভারের নিয়ন্ত্রণ বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং কোচ ও প্রতিপক্ষ উভয়ই তার প্রভাবকে স্বীকার করেছে।



