ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাদক পাচার, তেল ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আলোচনার জন্য তিনি সর্বদা প্রস্তুত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে কোনো সময়, যে কোনো স্থানে আলোচনার টেবিলে বসতে ইচ্ছুক বলে উল্লেখ করেছেন।
এই মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চাপের কয়েক সপ্তাহ পর প্রকাশ পেয়েছে, যখন ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার সরকারকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান গ্রহণে উৎসাহিত করছিল।
মাদুরো ট্রাম্পের একটি নির্দিষ্ট দাবির ওপর সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন যে সিআইএ পরিচালিত একটি আক্রমণ ভেনেজুয়েলার একটি নোঙর সুবিধা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
ট্রাম্পের মতে, ওই আক্রমণে ভেনেজুয়েলার একটি ডক এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়ে বড় বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যা মাদক পাচার জড়িত নৌযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বিবিসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঐ বিস্ফোরণটি সিআইএ পরিচালিত একটি ড্রোন হামলার ফলাফল।
যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডের মধ্যে প্রথম সরাসরি সামরিক অভিযান হিসেবে রেকর্ড হবে।
গত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন জাহাজকে মাদক সন্দেহে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ চালিয়ে আসছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ের অংশ।
সেপ্টেম্বর ২ তারিখে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রথম নৌযানে আক্রমণ থেকে এখন পর্যন্ত ত্রিশেরও বেশি নৌযানে হামলা হয়েছে এবং এই অভিযানগুলোতে একশত দশের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
মাদুরো যখন এই আক্রমণকে নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে বলা হয়, তখন তিনি বলেছিলেন যে বিষয়টি কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনার বিষয় হতে পারে, তবে কোনো স্পষ্ট স্বীকৃতি দেননি।
মাদক পাচার ছাড়াও তেল রপ্তানি ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাদুরো।
ট্রাম্পের আরেকটি দাবি, যার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, তা হল মাদুরো তার দেশের কারাগার ও মানসিক আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বন্দীদের জোরপূর্বক যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোর করে চলেছে; ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে।
এই ধারাবাহিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক অভিযোগের মধ্যে ভবিষ্যতে কী ধরনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি গড়ে উঠবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।
ভেনেজুয়েলার সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সূচনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষত তেল রপ্তানি ও মাদক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে।
অবশেষে, মাদুরোর এই প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের সমন্বয় ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



