ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইউ) শেষমোড়ে রাতের খাবার খুঁজতে বেরিয়ে যাওয়া পাঁচজন শিক্ষার্থী বহিরাগতদের হিংসাত্মক আক্রমণের শিকার হন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটেছে এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আক্রমণটি শেষমোড়ের সংলগ্ন এলাকায় ঘটে, যেখানে ঈশা খাঁ ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা খাবার সংগ্রহের জন্য বেরিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীর মধ্যে চিহ্নিত চোর সন্দেহের কারণে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিরে রূপ নেয়।
আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঈশা খাঁ হলের তৃতীয় বর্ষের পশুপালন অনুষদের সিয়াম, ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের অন্তর ও ইমন, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের তানভীর, এবং মাওলানা ভাসানী হলের কৃষি অর্থনীতি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের প্রিয় অন্তর্ভুক্ত। সকলেই গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বিএইউয়ের প্রক্টর, অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম জানান, থানা থেকে পাঠানো পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করেছে এবং আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রাধিকার।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নাজমুস সাকিব জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কয়েকজন বহিরাগত ঈশা খাঁ হলের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে, তখন শিক্ষার্থীরা তাদেরকে চোর সন্দেহে আটকায়। এই মুহূর্তে উভয় পক্ষের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষ ঘটে, পরে হল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বহিরাগতদের মুক্তি দেওয়া হয়।
বিকাল ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা শেষমোড়ের দিকে যাওয়ার সময় আবার বহিরাগতদের দ্বারা বাধা পায়। কিছু লোক ইট ও পাটকেল নিক্ষেপ করে, আর অন্যরা লোহার পাইপ ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়। এই সময়ে এক শিক্ষার্থীর মাথায় লোহার পাইপের আঘাত লেগে গলায় ফাটল দেখা দেয়, আর অন্যজনের নাক ভেঙে যায়।
আহত শিক্ষার্থীদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তীব্র সেবার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসা চলাকালে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ দেখা গেছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী বলেন, “রাতের খাবার খুঁজতে আমরা শেষমোড়ের দিকে যাচ্ছিলাম, তখনই স্থানীয় কিছু লোক আমাদের পথে বাধা দেয় এবং উত্তেজনা বাড়ে। এক পর্যায়ে ইট ছোড়া শুরু হয়, আমার দুইজন সিনিয়র সামনে গিয়ে লোহার পাইপের আঘাত পায়, ফলে তাদের মাথা ও নাক ভেঙে যায়।”
পুলিশের মতে, আক্রমণকারী ব্যক্তিরা অপরিচিত এবং তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের বিবৃতি সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলে ভিডিও রেকর্ডিং পরীক্ষা করা হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, আক্রমণটি হিংসাত্মক অপরাধের শ্রেণিতে পড়বে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ওসি নাজমুস সাকিব উল্লেখ করেন, “ঘটনার পর রাত দুইটা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং তদন্ত চলমান। সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে পদক্ষেপ নেবে।



