28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাউসমান খাওয়াজা সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অবসর ঘোষণায় সমালোচনা ও বর্ণবাদ নিয়ে মন্তব্য

উসমান খাওয়াজা সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অবসর ঘোষণায় সমালোচনা ও বর্ণবাদ নিয়ে মন্তব্য

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম মুসলিম খেলোয়াড় উসমান খাওয়াজা সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (SCG) তার অবসর ঘোষণার সময় সাম্প্রতিক সময়ে তার ওপর আরোপিত সমালোচনা ও বর্ণগত স্টেরিওটাইপের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তিনি নিজের ক্যারিয়ার জুড়ে যে ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছেন তা তুলে ধরে, বিশেষ করে অশেস সিরিজের আগে গলফ খেলা নিয়ে মিডিয়ার আক্রমণকে ব্যক্তিগত আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেন।

প্রেস কনফারেন্সটি প্রায় পঞ্চান্ন মিনিট স্থায়ী হয় এবং এতে তিনি নিজের শারীরিক অবস্থা, বিশেষ করে পার্থের টেস্টের আগে পিঠে স্প্যাজমের কথা উল্লেখ করেন। এই পিঠের ব্যথা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, তবে মিডিয়া ও কিছু প্রাক্তন খেলোয়াড়ের মন্তব্য তাকে শারীরিক সমস্যার চেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে।

খাওয়াজা জানান, পার্থে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের আগে গলফের জন্য সময় নেওয়ার সিদ্ধান্তের ওপর তিনি তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন। গলফের আগে তার পিঠে স্প্যাজমের অভিযোগ উঠে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই শারীরিক সমস্যার জন্য তিনি দায়ী ছিলেন না। তবু মিডিয়া তাকে ‘দলপ্রতি অপ্রতিবদ্ধ’, ‘নিজের স্বার্থে কাজ করা’ ইত্যাদি নেতিবাচক লেবেল দিয়ে সমালোচনা করে।

মিডিয়া ও কিছু প্রাক্তন খেলোয়াড়ের আক্রমণ দুই দিন নয়, পাঁচ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এই সমালোচনা শুধুমাত্র তার পারফরম্যান্স নয়, তার প্রস্তুতি এবং ব্যক্তিগত মনোভাবের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের আক্রমণ তার ক্যারিয়ারের শেষের দিকে এসে তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

খাওয়াজা এই সমালোচনাকে ‘ব্যক্তিগত’ বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, গলফের আগে তার প্রস্তুতি নিয়ে যে মন্তব্যগুলো করা হয়েছিল সেগুলো মূলত বর্ণগত স্টেরিওটাইপের উপর ভিত্তি করে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘অলস’, ‘স্বার্থপর’, ‘দলপ্রতি অপ্রতিবদ্ধ’ ইত্যাদি শব্দগুলো তার জীবনের পুরো সময়ে শোনার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই স্টেরিওটাইপগুলো তার পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সামাজিক পরিচয়কেও প্রভাবিত করেছে।

পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে প্রথম মুসলিম হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেওয়া খাওয়াজা দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে ‘রঙিন’ খেলোয়াড় হিসেবে অনুভব করেছেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল দেশের গর্ব, তবে তার সঙ্গে আচরণে পার্থক্য রয়েছে। দলের সাফল্য ও গর্বের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কখনো কখনো টানাপোড়েনের মতো অনুভূত হয়েছে।

খাওয়াজা আরও উল্লেখ করেন, গলফের আগে অন্য অনেক খেলোয়াড়ই একই ধরনের শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, তবে তাদের ওপর একই রকম সমালোচনা করা হয়নি। তিনি এই বৈষম্যের তুলনা করে বলেন, ‘অনেক খেলোয়াড় গলফের আগে আঘাত পেয়েছেন, কিন্তু কেউই এ নিয়ে মন্তব্য করেনি’। এই বিষয়টি তাকে আরও দৃঢ় করেছে যে সমালোচনা তার পারফরম্যান্সের বদলে তার পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে।

অবসর ঘোষণার মাধ্যমে উসমান খাওয়াজা তার ক্যারিয়ার শেষের দিকে এসে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে রঙিন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি ও সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার শেষ বক্তব্যে তিনি দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য সমান সুযোগের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Cricbuzz
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments