কক্সবাজারের টেকনাফে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় তিনটায় একটি গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালায় এবং ১০,০০০ ইয়াবা গুঁড়ি, প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের মাদক জব্দ করে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযানটি টেকনাফ স্টেশনের কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত দলটি পরিচালনা করে, যারা নাফ নদের নৈটংপাড়া ঘাটের নিকটে সন্দেহজনক একটি নৌকা অনুসন্ধান করে। সূত্র অনুযায়ী, ওই নৌকায় বড় পরিমাণে নিষিদ্ধ পদার্থ পরিবহন করা হচ্ছিল।
সন্ধ্যা তিনটায় দলটি নৌকায় প্রবেশ করে এবং তৎক্ষণাৎ মাদকদ্রব্যের সন্ধান পায়। অনুসন্ধানের সময় ১০,০০০ ট্যাবলেট ইয়াবা পাওয়া যায়, যা স্থানীয় বাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয় এবং যুবকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়।
মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি, দলটি তিনজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করে, যাদের নাম ও পরিচয় সূত্রে উল্লেখিতভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় কোনো সহিংসতা বা প্রতিরোধের ঘটনা রেকর্ড করা যায়নি।
জব্দকৃত মাদক ও গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনদের সঙ্গে টেকনাফ পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়, যেখানে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত করে। হস্তান্তরের পর, পুলিশ স্টেশন মাদকদ্রব্যের বিশ্লেষণ ও অপরাধীর পরিচয় যাচাইয়ের কাজ শুরু করে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়ামুল হক জানান, টেকনাফে মাদক পাচার রোধে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া হবে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
গ্রেপ্তারকৃত তিনজন সন্দেহভাজনকে টেকনাফের স্থানীয় আদালতে রেফার করা হবে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হবে। আদালত তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারণ করবে এবং জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করবে।
এই ঘটনাটি টেকনাফ অঞ্চলে মাদক পাচার সমস্যার প্রতি সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার তীব্র দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। নাফ নদের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারকারী গোষ্ঠী প্রায়ই এই নদীকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
কোস্ট গার্ডের এই সফল অভিযান স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতি আস্থা বাড়িয়ে তুলেছে। সম্প্রদায়ের সদস্যরা উল্লেখ করেন, মাদক সমস্যার মোকাবেলায় এমন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ সমাজের সুস্থতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অধিকন্তু, টেকনাফে মাদক পাচার রোধে স্থানীয় পুলিশ ও সীমান্ত রক্ষী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে তথ্য শেয়ারিং, নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে মাদক প্রবাহ বন্ধ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের সন্ধানে অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সীমান্ত পারাপারের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করবে।



