ভারত ও বাংলাদেশ গঙ্গা নদীর পানির বণ্টন চুক্তি নবায়নের আলোকে যৌথভাবে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর প্রবাহ পরিমাপ শুরু করেছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ২ জানুয়ারি শুক্রবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, ৩০ বছর পুরনো গঙ্গা চুক্তি এই বছরের ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে এবং নবায়ন প্রক্রিয়া এখনই ত্বরান্বিত হয়েছে।
১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা‑পদ্মা চুক্তি ৩০ বছরের মেয়াদে দু’দেশের মধ্যে পানির ভাগাভাগি নির্ধারণ করে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষই পুনর্নবীকরণের শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যা উভয় দেশের কৃষি, শিল্প ও ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বছরের শেষের দিকে চুক্তি নবায়নের দরকারি শর্তগুলো চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে, বৃহস্পতিবার থেকে উভয় দেশই গঙ্গা ও পদ্মা নদীর প্রবাহ পরিমাপের কাজ হাতে নিয়েছে। এই পর্যবেক্ষণ কাজের সূচনা দুই দেশের জলসম্পদ সংস্থার সমন্বয়ে করা হয়েছে এবং এটি প্রথমবারের মতো যৌথভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
পরিমাপের রীতি নির্ধারিত হয়েছে যে, আগামী ৩১ মে পর্যন্ত প্রতি দশ দিন অন্তর গঙ্গা ও পদ্মা নদীর প্রবাহের পরিমাণ রেকর্ড করা হবে। এই তথ্যগুলো চুক্তি নবায়নের আলোচনায় প্রাসঙ্গিক ডেটা হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের জল নীতি গঠনে সহায়ক হবে।
ভারতীয় দিক থেকে কেন্দ্রীয় জল কমিশনের (CWC) উপ-পরিচালক সৌরভ কুমার এবং সহযোগী পরিচালক সানি অরোরা বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তারা দু’দেশের প্রযুক্তিগত দলকে সমন্বয় করে পর্যবেক্ষণ কাজের তদারকি করবেন এবং ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি নির্ধারণে সহায়তা করবেন।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর‑পূর্বাঞ্চলীয় পানি বিজ্ঞান পরিমাপ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফিন জুবায়েদ নেতৃত্বে চারজনের একটি দল ভারতীয় দলের সঙ্গে কাজ করছে। এই দলটি স্থানীয় জলবায়ু ও প্রবাহের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে চুক্তি আলোচনায় প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে।
সুরক্ষার দিক থেকে, পাবনা হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শিব্বের হোসেন উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারতীয় পর্যবেক্ষণ দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূর্বে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়, যার মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রোটোকল শক্তিশালী করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, গঙ্গা‑পদ্মা চুক্তির নবায়ন কেবল দু’দেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার জল নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একই সময়ে, ভারত‑নেপাল ও ভারত‑ভুটান মতো অন্যান্য পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে চলমান জল ভাগাভাগি চুক্তিগুলোর তুলনায় এই উদ্যোগটি দ্বিপাক্ষিক বিশ্বাসের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, উভয় দেশ ৩১ মে পর্যন্ত সংগ্রহ করা ডেটা বিশ্লেষণ করে চুক্তি নবায়নের শর্তাবলী চূড়ান্ত করবে এবং নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণ করবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানির বণ্টন ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।



