সুইস আলপ্সের ক্র্যান্স-মন্টানা শহরের লে কনস্টেলেশন বারতে রাত ১:৩০ টার কাছাকাছি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যা নতুন বছরের উদযাপনকে দেশের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডিতে রূপান্তরিত করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় চল্লিশ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একশের বেশি মানুষ আহত, তাতে বেশিরভাগই গুরুতর আঘাত পেয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি; তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে আগুনের মূল উৎস অনুসন্ধান করছে। বারটি তরুণ পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল এবং রাতের অল্প সময়ের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সাক্ষীজনের বর্ণনা অনুযায়ী আতঙ্কের মুহূর্তে মানুষ জানালায় ভাঙা দিয়ে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করে, আর দাহ্য পোশাক পরা কিছু ব্যক্তি রাস্তায় অশ্রুপাতের মতো দৌড়ে বেরিয়ে আসে। এই বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে তুলেছিল, ফলে আহতদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে।
বারটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৩০০ জন এবং টেরেসে অতিরিক্ত চুয়ালিশ জন বসতে পারত, তবে আগুনের সময় সেখানে কতজন উপস্থিত ছিল তা স্পষ্ট নয়। অনুপস্থিত ব্যক্তির সংখ্যা এবং মোট উপস্থিতির সঠিক হিসাব এখনও নির্ধারণ করা বাকি।
সুইস পুলিশ জানিয়েছে যে মৃতদেহ শনাক্ত করতে দিন বা সপ্তাহ লাগতে পারে, ফলে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের জন্য অপেক্ষা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী তার বন্ধুর সন্ধানে সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও পোস্ট শেয়ার করেও কোনো সাড়া পায়নি, তার বাবা-মা এখনও জানেন না তাদের সন্তান কোথায়।
প্রেসিডেন্ট গাই পার্মেলিন ঘটনাটিকে “অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভয়াবহ বিপর্যয়” বলে উল্লেখ করে পাঁচ দিন ধরে জাতীয় পতাকা অর্ধ-ডাউন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে দেশের শোকের মেজাজ প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ কমান্ডার ফ্রেডেরিক গিসলার উল্লেখ করেছেন যে কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোর সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশী দূতাবাসের সাথেও সমন্বয় করছে। ক্র্যান্স রিসোর্টের আন্তর্জাতিক স্বভাবের কারণে বিদেশী নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্যান্টনের প্রধান প্রসিকিউটর বেট্রিস পিলৌড উল্লেখ করেন যে শিকড় শনাক্তকরণ ও দেহ ফেরত দেওয়ার জন্য বিশাল সম্পদ mobilized হয়েছে, যাতে পরিবারগুলোকে দ্রুততম সময়ে জানানো যায়। ফরেনসিক দলগুলো প্রমাণ সংগ্রহ, আগুনের উৎস নির্ণয় এবং সম্ভাব্য দায়িত্বশীলদের সনাক্তকরণে কাজ করছে।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে তদন্তের ফলাফল আদালতে উপস্থাপন করা হবে, এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এই সময়ে পরিবারগুলোকে সমর্থন প্রদান এবং শোকের সময়ে মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।



