জিম, দৌড়ের ট্র্যাক অথবা অফিসের ডেস্কে ব্যায়াম করা মানুষদের জন্য ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়ের ব্যবহার বাড়ছে। এই পানীয়গুলোকে শারীরিক পারফরম্যান্স ও দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য বলে প্রচার করা হয়। তবে নতুন গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণ দৈনন্দিন ব্যায়ামের জন্য সেগুলো সবসময় প্রয়োজনীয় নয়।
বাজারে বিভিন্ন রকমের স্পোর্টস ড্রিঙ্ক, পাউডার এবং স্যাচেট পাওয়া যায়, যেগুলোর দাম একদিনে কয়েক ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই পণ্যগুলোকে এখন কেবল পেশাদার ক্রীড়াবিদ নয়, সাধারণ জিমের সদস্য, অফিস কর্মী এবং যাতায়াতকারী মানুষদের জন্যও দৈনন্দিন হাইড্রেশন সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
ইলেক্ট্রোলাইট বলতে মূলত সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম মত খনিজকে বোঝায়, যা স্নায়ু সংকেত, পেশীর সংকোচন এবং শরীরের তরল ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই খনিজগুলো স্বাভাবিকভাবে শরীরের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং অতিরিক্ত ঘাম ঝরলে মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে।
লিভারপুল জন মোরস ইউনিভার্সিটির স্পোর্টস নিউট্রিশন গবেষক গ্রেম ক্লোজের মতে, অধিকাংশ মানুষ ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি অনুভব করে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইলেক্ট্রোলাইটের স্তর স্থিতিশীল রাখে, এবং সাধারণ খাবার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে এই খনিজ গ্রহণ করা যায়।
সাধারণ খাবারে লবণ, ফল ও শাকসবজিতে পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম স্বাভাবিকভাবে থাকে, ফলে সুষম খাদ্যাভ্যাসই ইলেক্ট্রোলাইটের প্রধান সরবরাহকারী। তাই অতিরিক্ত পণ্য কেনার আগে নিজের খাবারের গুণগত মান পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত।
কিন্তু দীর্ঘ সময়ের তীব্র ব্যায়াম, বিশেষ করে গরম পরিবেশে ঘাম বেশি হওয়ার সময় ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা হ্রাস পেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ শরীরের লবণ সাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। গবেষক বলেন, দীর্ঘ সময়ের ব্যায়াম বা ঘাম বেশি হওয়া ব্যক্তিদের জন্য সামান্য পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট যোগ করা উপকারী।
ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়ের আরেকটি সুবিধা হল তা তৃষ্ণা বাড়ায়, ফলে ব্যায়ামের সময় বেশি তরল গ্রহণে উৎসাহিত হয়। দীর্ঘ দৌড় বা তীব্র প্রশিক্ষণের সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ অপরিহার্য, এবং এই পানীয়গুলো তা সহজে নিশ্চিত করতে পারে।
অন্যদিকে, মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম—যেমন জিমে ওয়ার্কআউট বা ৫ কিলোমিটার দৌড়—এর জন্য সাধারণ পানি যথেষ্ট। গবেষক জোর দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত খরচের বদলে স্বাভাবিকভাবে পানি পান করাই অধিকাংশ মানুষের জন্য যথাযথ।
কিছু মানুষ ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়ের স্বাদ পছন্দ করে এবং তা পান করার ফলে বেশি তরল গ্রহণে সহায়তা পায়। এই ক্ষেত্রে স্বাদই মূল লক্ষ্য হলে, অতিরিক্ত খরচ না করে ঘরে তৈরি সহজ মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
বাজারের দামী পাউডার বা স্যাচেটের পরিবর্তে ঘরে সহজে পাওয়া লবণ, চিনি এবং ফলের রস মিশিয়ে নিজস্ব ইলেক্ট্রোলাইট পানীয় তৈরি করা সম্ভব। এভাবে স্বাদ ও পুষ্টি দুটোই বজায় রেখে খরচ কমানো যায়।
সারসংক্ষেপে, দৈনন্দিন হালকা ব্যায়ামের জন্য পানি যথেষ্ট, আর দীর্ঘ ও তীব্র প্রশিক্ষণের সময়ই ইলেক্ট্রোলাইটের অতিরিক্ত গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দেয়। সঠিক খাবার ও স্বাভাবিক পানীয়ের মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষই ইলেক্ট্রোলাইটের চাহিদা পূরণ করতে পারে, ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়ানো সম্ভব। আপনার ব্যায়ামের ধরন ও তীব্রতা বিবেচনা করে সঠিক হাইড্রেশন পদ্ধতি নির্বাচন করুন।



