22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাআইসিসি রেটিংয়ে বাংলাদেশি পিচ ও আউটফিল্ডের অবস্থান নিম্নে

আইসিসি রেটিংয়ে বাংলাদেশি পিচ ও আউটফিল্ডের অবস্থান নিম্নে

আইসিসি পিচ ও আউটফিল্ড রেটিং ব্যবস্থা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য সমতাপূর্ণ পিচকে “খুব ভালো” ধরা হয়। তবে সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেখায়, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচগুলোর পিচ ও আউটফিল্ডের গুণমান বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রত্যাশার নিচে।

আইসিসি পিচের মান চারটি স্তরে ভাগ করে: “খুব ভালো”, “সন্তোষজনক”, “অসন্তোষজনক” এবং “খেলার অযোগ্য”। রেফারিরা প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরে পিচ ও আউটফিল্ডের রেটিং আইসিসিতে জমা দেন। “অসন্তোষজনক” পিচকে এক ডিমেরিট পয়েন্ট এবং “খেলার অযোগ্য” পিচকে তিন ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়। কোনো ভেন্যু ছয় পয়েন্টে পৌঁছালে এক বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচের অনুমতি বন্ধ হয়, আর বারো পয়েন্টে দুই বছর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৩টি টেস্টের মধ্যে মাত্র ১৫.৩৮ শতাংশ পিচ “খুব ভালো” রেটিং পেয়েছে। এই সূচক শুধুমাত্র শ্রীলঙ্কার চেয়ে কম, যা দেশের পিচের মান উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ নির্দেশ করে। একই সময়ে, ৭.৬৯ শতাংশ পিচকে “অসন্তোষজনক” রেটিং দেওয়া হয়েছে, যেখানে শ্রীলঙ্কার কোনো পিচ এই শ্রেণিতে পড়েনি।

বহিরাগত তুলনায়, নিউজিল্যান্ডের পিচের ৮১.৮১ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ৪৩.৭৫ শতাংশ “খুব ভালো” রেটিং পেয়েছে। ইংল্যান্ড ও ভারতের পিচের গুণমানও বাংলাদেশির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চ। এই পার্থক্যগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি পিচের প্রতিযোগিতামূলকতা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশের তিনটি প্রধান ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত টেস্টের মধ্যে মাত্র দুইটি পিচ “খুব ভালো” রেটিং পেয়েছে। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিলেট ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত টেস্টে এই স্বীকৃতি অর্জিত হয়। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা পিচকে “অসন্তোষজনক” রেটিং দেওয়া হয়।

পিচের পাশাপাশি আউটফিল্ডের মানও উদ্বেগের বিষয়। ১৩টি টেস্টের মধ্যে মাত্র ৪৬.১৫ শতাংশ আউটফিল্ডকে “খুব ভালো” রেটিং দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের আউটফিল্ডের গুণমান এই সংখ্যার তুলনায় অনেক এগিয়ে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ছয়টি টেস্টের আউটফিল্ডকে “খুব ভালো” রেটিং দেওয়া হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের আউটফিল্ডের উন্নয়নের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। তবে বাকি আউটফিল্ডগুলো এখনও সন্তোষজনক মানে পৌঁছায়নি, ফলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও খেলার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

আইসিসি রেটিংয়ের ভিত্তিতে, ভেন্যু পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে পিচ প্রস্তুতি ও রক্ষণাবেক্ষণে অধিক মনোযোগ দিতে হবে। পিচের মাটি, ঘাসের ঘনত্ব এবং রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি সবই পিচের গুণমান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইভাবে, আউটফিল্ডের সমতলতা ও ঘাসের কভারেজও সমানভাবে মূল্যায়িত হয়।

বাংলাদেশি ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে পিচ ও আউটফিল্ডের মান উন্নয়নের জন্য কিছু উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। তবে বাস্তবায়নের গতি ও ফলাফল এখনো পর্যবেক্ষণাধীন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সামঞ্জস্য রাখতে হলে, ভেন্যু পরিকল্পনা, মাটির বিশ্লেষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী প্রশিক্ষণে ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন।

আসন্ন সিরিজগুলোতে, বিশেষ করে যদি বিদেশি দলগুলো বাংলাদেশে টেস্টের জন্য আসেন, তবে পিচ ও আউটফিল্ডের রেটিং পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। রেটিংয়ে উন্নতি না হলে, আইসিসি নির্ধারিত ডিমেরিট পয়েন্টের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়ে যাবে।

সারসংক্ষেপে, বর্তমান পরিসংখ্যান দেখায় যে বাংলাদেশে পিচ ও আউটফিল্ডের গুণমান আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতি উন্নত করতে হলে, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যদি পিচ ও আউটফিল্ডের রেটিং উন্নত হয়, তবে বাংলাদেশি ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়বে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments