যুক্তরাষ্ট্রের ৭৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিশদ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি ডাক্তারের পরামর্শের চেয়ে বেশি পরিমাণে অ্যাসপিরিন গ্রহণ করেন, হাতের দাগ ঢাকতে মেকআপ ব্যবহার করেন এবং নিয়মিত ব্যায়ামকে ‘বিরক্তিকর’ বলে বিবেচনা করে তা ত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে, অক্টোবর মাসে তিনি যে মেডিকেল স্ক্যান করিয়েছিলেন তা সিটি স্ক্যান, এমআরআই নয়, তা স্পষ্ট করেন।
ট্রাম্পের মতে, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন গ্রহণ করছেন, যদিও অধিকাংশ চিকিৎসক ৮১ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করার পরামর্শ দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে রক্তের ঘনত্ব কম রাখতে এবং হৃদয়ে রক্তের সঞ্চয় রোধে এই উচ্চ ডোজ প্রয়োজনীয় বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া, তিনি স্বীকার করেন যে মেকআপ ব্যবহার করে হাতের কালশিটে পড়া দাগগুলো লুকিয়ে রাখেন এবং ব্যায়ামকে সময়ের অপচয় বলে বিবেচনা করে তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অক্টোবরের স্ক্যান সংক্রান্ত পূর্বের ভুল তথ্য সংশোধন করে ট্রাম্প জানান, তিনি ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারে সিটি স্ক্যান করিয়েছিলেন, যা কোনো হৃদরোগজনিত সমস্যার উপস্থিতি যাচাই করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। স্ক্যানের ফলাফল অনুযায়ী কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি এবং এটি এমআরআই স্ক্যানের বদলে সিটি স্ক্যান ছিল, এই বিষয়টি তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
বয়সের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থার কিছু লক্ষণ মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। কখনো কখনো বৈঠকের সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং প্রশ্নের উত্তর দিতে অসুবিধা বোধ করেন। এসব ঘটনা তার শারীরিক সক্ষমতা ও শোনার ক্ষমতার হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়, যা তার নেতৃত্বের কার্যকারিতার ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে।
ট্রাম্পের নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন এবং চিকিৎসক শন বারবাবেলা নিশ্চিত করেন যে সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে হৃদয় সংক্রান্ত কোনো সমস্যার উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে স্ক্যানের ফলাফল স্বাভাবিক এবং কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা যায়নি। তবে, ডাক্তারের মতে উচ্চ ডোজের অ্যাসপিরিন দীর্ঘমেয়াদে রক্তক্ষরণ বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের উচ্চ মাত্রার অ্যাসপিরিন গ্রহণ ও ব্যায়াম ত্যাগকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সমালোচনা করছেন। তারা উল্লেখ করেন যে নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য এবং অতিরিক্ত অ্যাসপিরিন রক্তের জমাট বাঁধা কমাতে সাহায্য করলেও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তপাতের সম্ভাবনা বাড়ায়। এছাড়া, মেকআপ ব্যবহার করে শারীরিক সমস্যার লুকিয়ে রাখার প্রবণতা স্বাস্থ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের এই প্রকাশনা আসন্ন নির্বাচনের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটারদের মধ্যে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়লে তার রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষের দল তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে, ট্রাম্পের স্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ নিখুঁততা সম্পর্কে তার আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য তার সমর্থকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জাগাতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নতুন প্রকাশনা তার উচ্চ ডোজের অ্যাসপিরিন গ্রহণ, ব্যায়াম ত্যাগ এবং মেকআপ ব্যবহারসহ ব্যক্তিগত অভ্যাসকে তুলে ধরে, পাশাপাশি অক্টোবরের সিটি স্ক্যানের ফলাফলকে স্পষ্ট করে। যদিও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা তার কিছু অভ্যাসকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সমালোচনা করছেন, রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে এই তথ্যগুলো তার ভবিষ্যৎ ক্যাম্পেইন ও শাসনকালে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনও অনিশ্চিত।



