যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ৭৯ বছর বয়সে, তার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিখুঁত বলে পুনরায় জোর দিয়েছেন। তিনি স্বাস্থ্য নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ায়, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিজের অবস্থার বিবরণ শেয়ার করেন।
ট্রাম্প জানান, তিনি গত ২৫ বছর ধরে ডাক্তারের সুপারিশের চেয়ে বেশি পরিমাণে এস্পিরিন গ্রহণ করছেন। সাধারণত ৮১ মিলিগ্রাম পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে তিনি প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম গ্রহণ করেন, যা রক্ত পাতলা রাখতে সহায়ক বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
এস্পিরিনের অতিরিক্ত ব্যবহার তার হাতে সহজে চোটের চিহ্ন ও নীলচে দাগের কারণ হয়েছে, তাই তিনি কসমেটিক মেকআপ ব্যবহার করে সেগুলো ঢেকে রাখেন। তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “আমি একটু অদ্ভুত বিশ্বাসী, তাই দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলাতে চাই না।”
শারীরিক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প স্বীকার করেন, তিনি ব্যায়ামকে “বোরিং” মনে করেন এবং নিয়মিত শারীরিক প্রশিক্ষণ করেন না। এই কথায় তিনি স্বাস্থ্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে “বিরক্তিকর” বলে উল্লেখ করেন।
অক্টোবর মাসে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানা যায়, ট্রাম্প ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারে সিটি স্ক্যান করিয়েছেন। পূর্বে তিনি ভুলভাবে জানিয়েছিলেন যে তিনি এমআরআই স্ক্যান করিয়েছেন, যা পরে সংশোধন করা হয়।
ডক্টর শ্যান বারবেলা, নেভি ক্যাপ্টেন, জানান, স্ক্যানের উদ্দেশ্য ছিল হৃদরোগের কোনো লক্ষণ না থাকলে তা নিশ্চিত করা। স্ক্যানের ফলাফল অনুযায়ী কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের আলোচনায় তিনি একবার সভায় ঘুমিয়ে পড়ার এবং প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনা তার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকা উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পকে ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি রোগ নির্ণয় করা হয়েছে, যা বয়স্কদের মধ্যে সাধারণ। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি কম্প্রেশন স্টকিং ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।
ট্রাম্পের এই স্বাস্থ্যের বিবরণে তিনি পুনরায় জোর দেন, “আমার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিখুঁত।” তিনি বলেন, “যদি কেউ আমার রক্তের গতি সম্পর্কে প্রশ্ন করে, আমি বলব, রক্ত পাতলা, হৃদয় সুস্থ।”
প্রেসিডেন্টের এস্পিরিনের ডোজ ও স্ক্যানের তথ্যের ভিত্তিতে, তার স্বাস্থ্য নীতি ও ব্যক্তিগত অভ্যাসের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক দেখা যায়। তিনি দীর্ঘদিনের অভ্যাসে অটল থাকায়, ডাক্তারের সুপারিশের পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই বিবরণগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিসরে স্বাস্থ্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে তীব্র করে তুলতে পারে। প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে, ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশের দাবি বাড়তে পারে।
অবশেষে, ট্রাম্পের স্বাস্থ্যের ওপর এই নতুন তথ্যগুলো তার রাজনৈতিক কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমান অবস্থায় তিনি স্বাস্থ্যের দিক থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে দাবি করছেন, যা জনমত ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।



