মনের গহ্বরে প্রবেশ করানো মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ‘দ্য হাউসমেইড’ শীঘ্রই ভারতের থিয়েটার ঘরে আসবে, তবে প্রকাশের আগে ভারতীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (সিএব) এর কাঁচিতে প্রায় আট মিনিটের দৃশ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। এই কাটছাঁটের মূল কারণ হল ছবিতে উপস্থিত নগ্নতা ও অন্তরঙ্গ দৃশ্য, যা সেন্সর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়েছে।
সিএব ছবির একাধিক নগ্ন ও সংবেদনশীল দৃশ্যকে সম্পূর্ণভাবে কেটে ফেলেছে এবং কিছু অংশে অডিও মিউট করার আদেশ দিয়েছে। মোট আট মিনিটের কাটছাঁটকে দেশের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সেন্সর কর্তন হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিশেষ করে, সিডনি সুইনি অভিনীত দীর্ঘ অন্তরঙ্গ দৃশ্যটি ভারতের সংস্করণে রাখা হয়নি। একই ধরণের আরেকটি দৃশ্যও বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ছবির মূল বর্ণনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
অ্যামান্ডা সেফ্রিডের একটি দৃশ্য সম্পূর্ণভাবে কেটে ফেলা হয়েছে, ফলে তার চরিত্রের কিছু আবেগীয় প্রকাশনা দর্শকের কাছে পৌঁছায়নি। অন্যদিকে, প্রধান অভিনেতা ব্র্যান্ডন স্ক্লেনারের একটি দৃশ্য সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, যাতে তার উপস্থিতি বজায় থাকে তবে সংবেদনশীলতা কমে।
এই পরিবর্তনের ফলে ছবির মোট দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড থেকে কমে ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে নেমে এসেছে। কাটছাঁটের পরেও গল্পের মূল কাঠামো ও থ্রিলার উপাদান বজায় রয়েছে, তবে কিছু দৃশ্যের সূক্ষ্মতা হারিয়ে গেছে।
সিডনি সুইনি পূর্বে সাহসী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত। ‘ইউফোরিয়া’, ‘দ্য ভোয়ার্স’, ‘অ্যানিওয়ান বাট ইউ’ এবং ‘ইডেন’ সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও সিরিজে তিনি সীমা ছাড়িয়ে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তার এই রেকর্ড নতুন ছবিতে আবারও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘দ্য হাউসমেইড’ মূলত একটি ঘরোয়া পরিবেশে গড়ে ওঠা মানসিক উত্তেজনা ও গোপনীয়তা উন্মোচন করে, যেখানে প্রধান চরিত্রের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষকে দৃশ্যমান করা হয়েছে। তবে সেন্সর কর্তন এই গোপনীয়তার কিছু স্তরকে ম্লান করেছে।
সিএবের নির্দেশনা অনুযায়ী, কাটা দৃশ্যগুলোতে অডিও মিউট করার আদেশও দেওয়া হয়েছে, যা দর্শকের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও ছবির মূল থিম অপরিবর্তিত থাকে, তবে কিছু সংবেদনশীল মুহূর্তের স্বচ্ছতা কমে যায়।
এই ধরনের সেন্সর কাটছাঁটের ফলে চলচ্চিত্রের শিল্পিক স্বায়ত্তশাসন ও প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। শিল্পকর্মে সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্বের সমন্বয় কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন মতামত উত্থাপিত হয়েছে।
বিনোদন শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভারতীয় বাজারে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের প্রবেশে সেন্সর বোর্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে অতিরিক্ত কাটছাঁট দর্শকের প্রত্যাশা ও চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
‘দ্য হাউসমেইড’ এর ভারতীয় রিলিজের তারিখ এখনও নিশ্চিত না হলেও, সংশোধিত সংস্করণটি শীঘ্রই থিয়েটার স্ক্রিনে দেখা যাবে। দর্শকরা পরিবর্তিত রূপে ছবির মূল গল্প উপভোগ করতে পারবেন, তবে কিছু দৃশ্যের অনুপস্থিতি তাদের অভিজ্ঞতাকে আংশিকভাবে সীমাবদ্ধ করতে পারে।
সর্বোপরি, ‘দ্য হাউসমেইড’ এর ভারতীয় সংস্করণে প্রায় আট মিনিটের দৃশ্য কাটা হয়েছে, যা ছবির মোট দৈর্ঘ্যকে ছয় মিনিট কমিয়ে দিয়েছে। সেন্সর কর্তন ছবির মূল কাঠামোকে পরিবর্তন না করলেও, কিছু সংবেদনশীল মুহূর্তের প্রকাশ সীমিত করেছে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের ভারতীয় বাজারে প্রবেশের সময় সেন্সর নীতির প্রভাবকে পুনরায় বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।



