গণতান্ত্রিক শক্তি ও ছাত্র সংগঠনকে একত্রিত করার লক্ষ্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি উপস্থিত সকলকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন।
বৈঠকের সূচনায় উপস্থিতরা সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে স্বাক্ষরিত শোকবইতে স্বাক্ষর করেন। শোকবইতে স্বাক্ষর করার পর দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর ঐক্যবদ্ধতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেছেন।
তারেক রহমান সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, বিএনপি-জামায়াতসহ ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দমন করতে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ অপরিহার্য।
বৈঠকে জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্যকে উল্লেখ করে, তা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ন্যায়পরায়ণ ও স্বচ্ছ শাসন গড়ে তোলার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমানের মতে, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে দিল্লির কিছু ফ্যাসিস্ট শক্তি নতুন ষড়যন্ত্র গড়ে তুলেছে। তিনি এই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলেন।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসা ভিত্তিক বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি গড়ে তোলা উচিত। তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন।
কায়েম আরও উল্লেখ করেন, গত ষোলো বছর ধরে তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকারের থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ছাত্র সমাজের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা অপরিহার্য।
ভাঙা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের মতো উদ্যোগে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন।
বৈঠকে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার বিষয়েও আলোচনা হয়। কায়েমের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতারা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনা দরকার।
বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করতে দেশের ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
এই আহ্বানটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন সংহতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।
বৈঠকের পর বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি ও ছাত্র গোষ্ঠী এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, যৌথ কর্মসূচি গঠনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছে।



