প্রধানমন্ত্রীর সানায়ে তাকাইচি এবং প্রায় ষাট নারী সংসদ সদস্য একত্রে জাতীয় সংসদ ভবনে নারী টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আবেদন পেশ করেছেন। এই পদক্ষেপটি অক্টোবর ২০২৪-এ ৪৬৫ আসনবিশিষ্ট নিম্নসভার রেকর্ড সংখ্যক ৭৩ জন নারী নির্বাচিত হওয়ার পর নেওয়া হয়েছে, যা ২০০৯ সালের পূর্বের সর্বোচ্চ ৫৪ জনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
নির্বাচনের পরপরই, বিরোধী দলীয় আইনসভা সদস্য ইয়াসুকো কোমিয়ামা উল্লেখ করেন যে, অধিবেশনের আগে টয়লেটের সামনে দীর্ঘ সারি গড়ে ওঠে, ফলে অনেক নারী কর্মী ও দর্শনার্থীকে অসুবিধার মুখে দাঁড়াতে হয়। তিনি আরও জানান, কিছু সহকর্মী সদস্য অধিবেশনের আগে টয়লেট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকেন।
বর্তমানে পার্লামেন্ট ভবনের অধিবেশন কক্ষের কাছে মাত্র একটি নারী টয়লেট রয়েছে, যার মধ্যে দুটো কিউবিকল আছে। পুরো ভবনে মোট নয়টি নারী টয়লেট রয়েছে, যেগুলোর মোট ২২টি কিউবিকল। অন্যদিকে, পুরুষদের জন্য ১২টি টয়লেট স্থাপিত, যেখানে ৬৭টি স্টল এবং ইউরিনাল রয়েছে। এই পার্থক্যটি নারী কর্মী ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রায়ই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে, কারণ তারা পুরুষ টয়লেটের পাশাপাশি একই স্থানে শেয়ার করতে বাধ্য হন।
কোমিয়ামা, যিনি সংবিধানিক গণতান্ত্রিক পার্টির সদস্য, ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন যে, তিনি এই বিষয়টি উত্থাপন করে ভবিষ্যতে যখন সংসদে নারীর সংখ্যা ৩০% অতিক্রম করবে, তখন এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি প্রশাসন সত্যিই নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দেয়, তবে এই অনুরোধে সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করা যায়।
জাতীয় সংসদ ভবন ১৯৩৬ সালে নির্মিত হয়, যখন নারীর ভোটাধিকার ১৯৪৫ সালে অর্জিত হয় এবং প্রথম নারী সংসদ সদস্য ১৯৪৬ সালে নিযুক্ত হন। এই তিন তলা বিশিষ্ট ভবনটি মোট ১৩,৩৫৬ বর্গমিটার (প্রায় দুইটি ফুটবল মাঠের সমান) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, এবং মোট তলা ক্ষেত্রফল ৫৩,৪৬৪ বর্গমিটার।
নিম্নসভার কমিটির চেয়ার ইয়াসুকাজু হামাদা এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নারী টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানো নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকার পূর্বে নেতৃত্বের পদে ৩০% নারীর অংশগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, যা বাস্তবায়নের জন্য অবকাঠামোগত সমর্থনও প্রয়োজন।
এই অনুরোধের ফলে ভবনের অবকাঠামো সংশোধনের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাজের পরিবেশকে আরও সমান ও সুবিধাজনক করে তুলবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে, তবে ইতোমধ্যে এই বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।



