28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকদক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম সনদবিহীন মানুষদের অদৃশ্যতা ও সংগ্রাম

দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম সনদবিহীন মানুষদের অদৃশ্যতা ও সংগ্রাম

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গের থেমবিসা টাউনশিপে ২৫ বছর বয়সী আরনল্ড এনকিউবের জীবন, যিনি জন্ম সনদবিহীন, তার অদৃশ্য অস্তিত্বের বাস্তবতা তুলে ধরে। তার বাবা দক্ষিণ আফ্রিকান, ফলে তিনি স্বাভাবিকভাবে নাগরিকত্বের অধিকারী হতেন, তবে জন্ম সনদ না থাকায় তিনি সরকারি নথিপত্র পেতে ব্যর্থ হন এবং মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

আর্নল্ডের জন্ম জোহানসবার্গে, তবে তার বাবা তার জন্মের আগে চলে গেছেন এবং মা তাকে ১৪ বছর বয়সে ছেড়ে গেছেন। ফলে তিনি নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে পারেননি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময়ই তিনি বুঝতে পারেন যে তার কাছে জন্ম সনদ নেই, যা তার শিক্ষার ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত করে।

নথিপত্রের অভাবে আরনল্ডকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে, সরকারি চাকরি পেতে বা কোনো স্থায়ী আয় নিশ্চিত করতে বাধা দেয়। তিনি বর্তমানে থেমবিসার ব্যাকস্ট্রিটে গাড়ি ধোয়া কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার মতে, এই অবস্থায় তিনি “অদৃশ্য” এবং “অস্তিত্বহীন” বোধ করেন, কারণ তিনি সমাজের মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। তিনি যোগ্য শিক্ষা না পেয়ে মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন, যা এক সময় তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হয়ে উঠেছিল।

আর্নল্ডের মতো মানুষদের সংখ্যা দক্ষিণ আফ্রিকায় আনুমানিক ১০,০০০, যদিও সরকারী পরিসংখ্যান নেই। এই অনুমান জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) এবং মানবাধিকার সংস্থার গবেষণার ভিত্তিতে করা হয়েছে। নথিপত্রের অভাবের ফলে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।

স্ট্যাটলেসনেসের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক বাধা, অপর্যাপ্ত রেকর্ড-রাখার ব্যবস্থা এবং কখনো কখনো নাগরিকত্বের স্বয়ংক্রিয় স্বীকৃতির অভাব। এই সমস্যার ফলে অনেকেই জন্মের পর থেকেই আইনি পরিচয়হীন হয়ে ওঠে, যা তাদের জীবনের সব দিকেই প্রভাব ফেলে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্ট্যাটলেসনেস একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়, যেখানে UNHCR বহু দেশকে নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং নথিপত্রের সহজলভ্যতা বাড়াতে আহ্বান জানায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় এই সমস্যার সমাধান না হলে দেশের মানবাধিকার রেকর্ড এবং আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ব্যাপক নীতি বা আইনগত কাঠামো গড়ে তোলা হয়নি, যা স্ট্যাটলেস ব্যক্তিদের নিবন্ধন এবং নথিপত্র প্রদান সহজ করে। ফলে তারা সমাজের প্রান্তে ধরা পড়ে এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরে রয়েছে এবং তারা দেশীয় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করছে।

আর্নল্ডের গল্প দেখায় যে, জন্ম সনদ না থাকলে একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান—সবই ঝুঁকির মুখে পড়ে। তার মতো বহু মানুষই আজও অদৃশ্য অবস্থায় বেঁচে আছে, যা সমাধান না করা পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলবে।

এই সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, নীতিগত সংস্কার এবং রেকর্ড-রাখার পদ্ধতির আধুনিকীকরণ প্রয়োজন। যদি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তবে স্ট্যাটলেস ব্যক্তিদের জন্য নথিপত্র প্রাপ্তি সহজ হবে এবং তারা সমাজে পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে। অন্যথায়, অদৃশ্য মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকবে এবং তাদের মানবিক অধিকার অবহেলিত হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments