20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসেনাবাহিনীর অভিযানে জব্দ পিস্তলকে ‘পিস্তলসদৃশ বস্তু’ হিসেবে রূপান্তর, মামলায় মাদকধারা প্রয়োগ

সেনাবাহিনীর অভিযানে জব্দ পিস্তলকে ‘পিস্তলসদৃশ বস্তু’ হিসেবে রূপান্তর, মামলায় মাদকধারা প্রয়োগ

দারুস সালাম থানা, সিলেটের নাছির উদ্দিনের বাড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযান চলাকালে দুইটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত অস্ত্রের তালিকায় পিস্তল দুটিকে ‘পিস্তলসদৃশ বস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, এয়ারগান এবং এয়ারগানের সিসাযুক্ত ৮১০টি পেলেটও তালিকাভুক্ত হয়েছে।

পিস্তল দুটির প্রকৃত স্বরূপ নির্ধারণের জন্য ব্যালাস্টিক টেস্টের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত সামগ্রী সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ সময় সেনাবাহিনী রাইফেল উদ্ধারের কথা বললেও, বাস্তবে তা এয়ারগান হিসেবে শনাক্ত হয়েছে এবং এয়ারগানকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয় না।

দারুস সালাম থানা এসআই মাসুম বিল্লাহ মামলাটির বাদী হিসেবে দায়ের করেছেন। দায়েরকৃত অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য কোনো ধারার উল্লেখ করা হয়নি। ফলে জব্দকৃত পিস্তলগুলোকে অস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

অভিযানের সময় সেনাবাহিনী আট বোতল বিদেশি মদ জব্দের কথা জানিয়েছিল, কিন্তু জব্দ তালিকায় মাত্র সাত বোতলই উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, জব্দ তালিকায় নাছির উদ্দিনের দুটি পাসপোর্ট, যার মধ্যে একটি লাল পাসপোর্ট, অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই বিষয়গুলো মামলার প্রমাণভিত্তিক শক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।

দারুস সালাম থানা ওসি এস এম জাকারিয়া জানিয়েছেন, পিস্তল দুটির প্রকৃত স্বরূপ নিশ্চিত করতে ব্যালাস্টিক টেস্টের ফলাফল অপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এয়ারগানকে অস্ত্র আইনের অধীনে মামলা দায়েরের সুযোগ নেই এবং জব্দকৃত পেলেটগুলোও একইভাবে আইনি দৃষ্টিতে অপরাধমূলক নয়।

সেনাবাহিনীর অভিযানের পর নাছির উদ্দিনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের পর মামলার ধারা পরিবর্তনের ফলে প্রাথমিকভাবে অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগ দুর্বল হয়ে মাদকধারা ভিত্তিক অভিযোগে রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিবর্তনকে নিয়ে আইনজীবী ও বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ জব্দকৃত সামগ্রীতে অস্ত্রের উপস্থিতি স্পষ্ট।

মামলাটি বর্তমানে দারুস সালাম থানার আদালতে দাখিল হয়েছে। আদালতে প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যালাস্টিক টেস্টের ফলাফল, সিআইডি ফরেনসিক রিপোর্ট এবং জব্দ তালিকায় উল্লেখিত সামগ্রীগুলো উপস্থাপন করা হবে। বিচারককে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, জব্দকৃত পিস্তলগুলোকে ‘পিস্তলসদৃশ বস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা যথাযথ কিনা।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণে দণ্ডবিধির ধারা প্রয়োগ না করা হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শুধুমাত্র মাদকধারা অনুযায়ী দায়ী হতে পারেন। তবে, অস্ত্র সংক্রান্ত প্রমাণের অনুপস্থিতি বা অপ্রতুলতা মামলার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

সেনাবাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে, অভিযানের সময় জব্দকৃত সামগ্রীগুলোকে সম্পূর্ণভাবে তালিকাভুক্ত করা এবং যথাযথ আইনি ধারা প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, থানা ওসি জাকারিয়া জোর দিয়ে বলেছেন, এয়ারগানকে অস্ত্র হিসেবে গণ্য না করা এবং পেলেটকে অপরাধমূলক না ধরা আইনি ভিত্তিতে সঠিক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ব্যালাস্টিক টেস্টের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মামলার মূল বিষয়গুলো পুনরায় আলোচিত হবে। যদি টেস্টে পিস্তলগুলোকে সত্যিকারের আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করা যায়, তবে মাদকধারা ছাড়াও অস্ত্র সংক্রান্ত ধারা প্রয়োগের সম্ভাবনা উত্থাপিত হতে পারে।

অবশেষে, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করে নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে, তা জনসাধারণের জানার জন্য প্রকাশ করা হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments