বাংলাদেশের জামাত‑ই‑ইসলামী নেতা শফিকুর রহমান এবং বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে গতকাল একত্রিত হয়ে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাঁচ বছরের যৌথ কর্মসূচি গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, অতীতেও দেশের মঙ্গলের জন্য উভয় দল একসাথে কাজ করেছে এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও একই পথে অগ্রসর হবে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রিয় দেশের স্বার্থে আমরা অতীতেও একত্রে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও একসাথে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।”
বিএনপি পক্ষও একই দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে, তাদের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান শফিকুরের সঙ্গে আলোচনার পর সমান প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। উভয় দল একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে।
এই মিটিংয়ে পাঁচ বছরের সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনা হয়। উভয় দল একমত যে, পরবর্তী পাঁচ বছর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে সুসংহত করার জন্য যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
শফিকুর আরও জানান, নির্বাচনের পর, বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ভোটের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, সরকার গঠনের আগে উভয় দল একটি খোলা মনের সঙ্গে বসে জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবে।
“নির্বাচনের তৎপরতা শেষে, সরকার গঠনের পূর্বে আমরা একত্রে বসে দেশের মঙ্গলের জন্য আলোচনা করব,” তিনি যোগ করেন, যা উভয় দলের সমন্বিত নীতি নির্ধারণের ইচ্ছা স্পষ্ট করে।
এই সমঝোতা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। উভয় দল একসাথে কাজ করলে রাজনৈতিক বিরোধ কমে আসবে এবং নীতি বাস্তবায়নে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই পদক্ষেপটি দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা বাস্তবায়নে উভয় দলের অভ্যন্তরীণ গঠনগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা প্রয়োজন।
আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল এই যৌথ পরিকল্পনার কার্যকারিতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি উভয় দল ভোটে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পায়, তবে তাদের সমন্বিত কৌশল সরকার গঠনের সময় প্রভাবশালী হতে পারে।
অধিকন্তু, সরকার গঠনের পূর্বে উভয় দলের সমন্বিত আলোচনা দেশের নীতি নির্ধারণে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিতে পারে, যা অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বিত পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
সারসংক্ষেপে, জামাত‑ই‑ইসলামী ও বিএনপি পাঁচ বছরের জন্য একসাথে কাজের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগে জাতীয় স্বার্থে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতি নির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে।



