চেলসি ফুটবল ক্লাবের প্রধান কোচ এনজো মারেস্কা, ২০২৬ সালের প্রথম দিনেই ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২-২ ড্র দিয়ে বোরউইচের সঙ্গে ম্যাচের পর তিনি প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা ক্লাবের উচ্চপদস্থদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
মারেস্কা এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন যে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং জনসমক্ষে কথা বলতে পারছেন না। তবে একই সন্ধ্যায় স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের টাচলাইন থেকে কোচিং করার পরেও তিনি মিডিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়িয়ে যান, যা ক্লাবের অভ্যন্তরে সন্দেহের সঞ্চার করে।
মিডিয়া সূত্রে জানানো হয় যে মারেস্কা আসলে প্রেস কনফারেন্সে না যাওয়ার কারণ ছিল তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সময় নেওয়া। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির কোচিং পদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছিলেন এবং চেলসির সঙ্গে চুক্তি শেষ করার উপায় খুঁজছিলেন। এই তথ্য প্রকাশের পর ক্লাবের ব্যবস্থাপনা মারেস্কার প্রতি আস্থা হারায়।
ডিসেম্বর ২০ তারিখে ন্যু ক্যাসলের সঙ্গে ২-২ ড্রের পর মারেস্কার অবস্থান আরও অস্থির হয়ে ওঠে। সূত্রগুলো জানান, যদি তিনি একই রকম আচরণ চালিয়ে যান তবে তার পদ থেকে অপসারণের সম্ভাবনা বাড়বে। চেলসির ইতিহাসে ইতিমধ্যে ম্যানেজারদের সঙ্গে মতবিরোধের উদাহরণ রয়েছে, তবে মারেস্কা প্রথম নয় যিনি ক্লাবের উচ্চপদস্থদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা দেখিয়েছেন।
মারেস্কা গত মাসে এভারটনের সঙ্গে জয়লাভের পরেও ক্লাবের প্রকল্পের প্রতি তার বিরোধপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি “সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা” ক্লাবের সঙ্গে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছেন বলে উল্লেখ করেন, যা তার অস্থির অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। এই মন্তব্যের পর থেকে ক্লাবের ভক্ত ও কর্মচারীরা তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে।
চেলসির অভ্যন্তরে মারেস্কার এই আচরণকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে দেখা হয়। ক্লাবের উচ্চপদস্থরা জানেন, তিনি ম্যানচেস্টার সিটির চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তাই তিনি ক্লাবের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সমন্বয় রাখতে পারছেন না। এই পরিস্থিতি ক্লাবের ব্যবস্থাপনা ও কোচের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়।
মারেস্কা, যিনি ৪৫ বছর বয়সী এবং কোচিং ক্যারিয়ারের তৃতীয় বছরে আছেন, তার দক্ষতা স্বীকৃত হলেও তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ত্রুটি রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। চেলসির পূর্বে জোসে মরিন্যো ও থমাস টুচেলের মতো বিশিষ্ট কোচদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায়, মারেস্কার নেতৃত্বে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
বোরউইচের সঙ্গে ম্যাচের পর মারেস্কা প্রেস কনফারেন্সে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে ক্লাবের মিডিয়া বিভাগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তিনি মিডিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করার কারণ হিসেবে ‘অসুস্থতা’ উল্লেখ করলেও, দ্রুতই সূত্রগুলো প্রকাশ করে যে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার জন্য সময় চেয়েছিলেন।
চেলসির ভক্তরা স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নতুন বছরের আগমনের সময় ক্লাবের এই অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা জানায়, মারেস্কার আচরণ ক্লাবের ঐতিহ্য ও গৌরবকে ক্ষুণ্ন করছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
ক্লাবের উচ্চপদস্থরা মারেস্কার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিষ্কার করতে চেয়েছিলেন, তবে তার অস্বীকারের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সূত্রগুলো জানায়, মারেস্কা ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশের পরই তিনি মিডিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়িয়ে গেছেন।
এই ঘটনার পর চেলসির ব্যবস্থাপনা মারেস্কার পদ থেকে অপসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। যদিও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে ক্লাবের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে পরিবর্তনের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, এনজো মারেস্কা চেলসির সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি, প্রেস কনফারেন্সে না যাওয়া, এবং ম্যানচেস্টার সিটির চাকরির প্রতি তার আগ্রহের ফলে ক্লাবের অভ্যন্তরে তীব্র উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে ক্লাবের কী পদক্ষেপ হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে মারেস্কার অবস্থান ইতিমধ্যে অস্থির হয়ে দাঁড়িয়েছে।



