ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে লক্ষ্য করে ডেঙ্গু রোগের সংখ্যা পুরো বছর জুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ কোনো ঋতু না থাকায় রোগীর সংখ্যা শীতকালেও স্থায়ীভাবে রয়ে গেছে। শহরের বাসিন্দারা মশার কামড়ের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন, আর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে ডেঙ্গু এখন মৌসুমী সমস্যার চেয়ে সারা বছরের জনস্বাস্থ্যের সংকটে পরিণত হয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দু’টি সিটি করপোরেশন মোট ১৫৪ কোটি টাকা ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১১০ কোটি টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রায় ৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। যদিও বাজেট বাড়ানো হয়েছে, তবু মশার সংখ্যা কমাতে উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেখা যায়নি।
গত দশকে দু’টি করপোরেশন একত্রে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করেছে। এ পরিমাণের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রায় ৫৬০ কোটি টাকা এবং বাকি অংশ দক্ষিণ করপোরেশন ও অন্যান্য কার্যক্রমে খরচ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এত বড় আর্থিক ব্যয় সত্ত্বেও মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে কাঠামোগত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।
নাগরিকদের অভিযোগে দেখা যায়, নিয়মিত স্প্রে ও কোয়াল জ্বালিয়ে মশা ধ্বংসের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গৃহ, অফিস, বিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং সরকারি দপ্তরে মশার উপস্থিতি অব্যাহত। দিনের বেলাতেও বাসিন্দারা স্প্রে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বাস্তবে মশার সংখ্যা হ্রাসের পরিবর্তে স্থায়ী উপস্থিতি নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলেছে।
বর্ষাকালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তীব্রভাবে বেড়েছে, ফলে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের রোগী ভর্তি বাড়ে। প্রতিদিন শত শত রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সের কাজের চাপ বৃদ্ধি পায়, এবং রোগীর যত্নে অতিরিক্ত শ্রমের প্রয়োজন হয়। একই সময়ে ডেঙ্গু সংক্রান্ত মৃত্যুর হারও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি হল লার্ভা ধ্বংস এবং মশার প্রজননস্থল সনাক্তকরণ। তবে সিটি করপোরেশনগুলো এই দিকের কার্যক্রমে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপরিষ্কৃত ড্রাম, টব, ছাদ ও নির্মাণস্থলে জমে থাকা পানি এডিস মশার জন্য আদর্শ প্রজননস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই ধরনের কীটনাশক দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার ফলে মশার মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে। ফলে প্রচলিত স্প্রে ও কোয়াল পদ্ধতি কম কার্যকরী হয়ে পড়েছে, আর বিকল্প বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণে অগ্রগতি ধীরগতিতে চলছে। বিশেষজ্ঞরা নতুন জেনেটিক বা বায়ো-ভিত্তিক পদ্ধতি, যেমন ওয়াটার ট্র্যাপ ও ব্যাকিটেরিয়াল কন্ট্রোল, ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন, তবে সেগুলোর বাস্তবায়ন এখনো সীমিত।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা, মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি এবং নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণের অভাব সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণে একতরফা আর্থিক ব্যয় যথেষ্ট নয়; সমন্বিত নীতি, দ্রুত



