ব্যাংক এশিয়া পিএলসি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন অতিরিক্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) এবং চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হিসেবে সাব্বির হোসেনকে নিয়োগ করেছে। এই পদবী তাকে ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা দলের অংশ করে তুলবে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেবে। হোসেনের যোগদানের সময়সূচি ব্যাংকের কৌশলগত পুনর্গঠন এবং ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করতে নির্ধারিত।
হোসেন ব্যাংক এশিয়ায় আসার আগে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসিতে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিওও পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে তিনি ব্যাংকের অপারেশনাল কাঠামো ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন। তার দায়িত্বের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, অপারেশন, এবং টেকসই আর্থিক সেবা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ব্র্যাক ব্যাংকে তার মেয়াদকালে হোসেন আইটি অবকাঠামো আধুনিকায়ন, ডিজিটাল চ্যানেল সম্প্রসারণ এবং প্রক্রিয়া পুনর্গঠনের উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি টেকসই ফাইন্যান্স পণ্য উন্নয়ন এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য বহু প্রকল্প চালু করেন। এই উদ্যোগগুলো ব্যাংকের বাজার শেয়ার বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন হোসেন ১৯৯৪ সালে অ্যানজি গ্রিন্ডলেস ব্যাংকে, যেখানে তিনি প্রাথমিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে যোগ দেন এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকিং প্র্যাকটিসে দক্ষতা অর্জন করেন। এই দুই দশকের অভিজ্ঞতা তাকে জটিল আর্থিক পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম করেছে।
শিক্ষাগত দিক থেকে হোসেন বাংলাদেশের শীর্ষ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় BUET থেকে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ সম্পন্ন করে ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তার প্রযুক্তিগত পটভূমি ও ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ ব্যাংকিং সেক্টরে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক।
ব্যাংক এশিয়ার জন্য হোসেনের যোগদান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি ডিজিটাল রূপান্তর ও অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রমাণিত ট্র্যাক রেকর্ড রাখেন। তার নেতৃত্বে ব্যাংক দ্রুত নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং ব্যাক-এন্ড প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়তা বাড়াতে পারে। ফলে গ্রাহক সন্তুষ্টি এবং খরচ হ্রাসের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
টেকসই ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে হোসেনের অভিজ্ঞতা ব্যাংক এশিয়াকে পরিবেশবান্ধব ঋণ এবং সবুজ প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে। দেশের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার টেকসই আর্থিক নীতি মেনে চলা এবং ESG মানদণ্ডে সামঞ্জস্য বজায় রাখা ব্যাংকের সুনাম ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে।
বাজারে হোসেনের নিয়োগকে ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন ব্যাংকের শেয়ার মূল্যে স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং প্রতিযোগীদের তুলনায় পার্থক্য গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে, সাব্বির হোসেনের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাংক এশিয়ার ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে। তবে নতুন কৌশল বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা



