বিএনপি আজ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেছে। কমিটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনী কৌশল, প্রার্থী ব্যবস্থাপনা ও সংগঠনগত কার্যক্রম সমন্বয় করবে।
কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নাজরুল ইসলাম খান নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি পূর্বে পার্টির বিভিন্ন নির্বাচনী পরিকল্পনা তদারকি করেছেন এবং এই পদে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সদস্য সচিবের দায়িত্বে বিএনপি সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল কবির রিজভি আছেন। তিনি কমিটির দৈনন্দিন কার্যক্রম তদারকি এবং সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।
কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপার্সনের অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জাবিয়ুল্লাহকে নির্ধারিত করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন স্তরের পার্টি কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবেন।
কমিটিতে অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্যদের মধ্যে রয়েছে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, পার্টি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজেম হোসেন আলাল, বিজন কান্তি সরকার, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, তারিক রহমানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং আইসিটি বিষয়ক সেক্রেটারি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান।
এছাড়াও পার্টির বিভিন্ন বিভাগ থেকে নির্বাচনী কর্মী, মিডিয়া সমন্বয়কারী ও আইনি পরামর্শদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিস্তৃত গঠন কমিটিকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম করবে।
কমিটির কাজের পরিধি সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, তারা নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ, প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা এবং পার্টির সংগঠনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করার দায়িত্বে থাকবে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী সংস্থা পার্টির নির্বাচনী প্রচারণা সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি এই সময়ে তার নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করছে, কারণ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পার্টি নেতৃত্বের মতে, নতুন কমিটি গঠন পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও বাহ্যিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারও নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে, তারা বিএনপির এই নতুন কাঠামোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বিএনপির এই পদক্ষেপের ফলে পার্টির প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আরও কাঠামোগত পদ্ধতি গ্রহণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। কমিটি প্রার্থীর যোগ্যতা, স্থানীয় সমর্থন ও নির্বাচনী সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে তালিকা চূড়ান্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কমিটির গঠন ঘোষণার পরপরই প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এতে নির্বাচনী পরিকল্পনা, প্রচারণা রোডম্যাপ এবং মিডিয়া কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই বৈঠকের ফলাফল পার্টির নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিএনপি এই নতুন সংগঠনকে দেশের বিভিন্ন স্তরে পার্টির উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলতে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে ব্যবহার করবে। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গঠিত হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটির গঠন পার্টির রাজনৈতিক কৌশলে নতুন দিক যোগ করেছে।



