জুলাই ২০২২-এ ঢাকার রামপুরা এলাকায় সংঘটিত ২৮ জনের মৃত্যুর মামলাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করে, অভিযুক্ত বি.জি.বি. কর্মকর্তাদের দোষারোপের বিরুদ্ধে আইনজীবী হামিদুল মিসবাহের প্রতিবাদ শোনা গিয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তাড়াহুড়ো তদন্ত মূলত ‘ডার্টি লন্ড্রি’র অংশ, যা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত নিয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালের প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে এই বক্তব্য দেওয়া হয়। হামিদুল মিসবাহ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলমের আইনজীবী, তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মামলাটিকে সামাজিক মিডিয়ার অতিরিক্ত হাইপ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যদিও ২৮ জনের প্রাণহানি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক।
মিসবাহের মতে, রামপুরা ও আবুল হোটেল এলাকায় ১৮ ও ১৯ জুলাই ঘটনার সময় বি.জি.বি., পুলিশ, আনসার এবং সাদা পোশাকধারী অস্ত্রধারী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাপ্রেক্ষে অন্যান্য বাহিনীর সদস্য ও সাদা পোশাকধারীরা তৎক্ষণাৎ সরে গেছেন, তবে বি.জি.বি. কর্মকর্তারা পালাতে পারেনি; তারা স্থির থেকেছেন এবং তাদের কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
আইনজীবী জোর দিয়ে বলেন, তাদের গুলিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। যদিও ২৮ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তা তাদের গুলির ফলাফল নয়। তিনি এই যুক্তি দিয়ে আদালতে তাদের নির্দোষতা প্রমাণের চেষ্টা করবেন। মিসবাহের বক্তব্যে উল্লেখ আছে, রাষ্ট্রের ব্যর্থতার ফলে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক মিডিয়া ও মতপ্রকাশের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করেছে, যা তদন্তকারী দলের ওপর অতিরিক্ত চাপ আরোপ করেছে।
এই চাপের ফলে গৃহীত তদন্ত প্রতিবেদনই শেষ পর্যন্ত প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদালতে পৌঁছেছে। মিসবাহের মতে, এই চেইন অব প্রেশারই নির্দোষ কর্মকর্তাদের আজ কাঠগড়ায় বসার মূল কারণ। তিনি দাবি করেন, তদন্তের স্বচ্ছতা না থাকলে সত্যিকারের দোষীকে বিচ্ছিন্ন করা কঠিন।
বিবি কর্মকর্তাদের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তদন্তের ধাপগুলোতে কোনো পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি এবং প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের দোষারোপ করা অনুচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও জনমত গঠনের প্রক্রিয়ায় সামাজিক মিডিয়ার অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ মামলাটিকে অতিরঞ্জিত করেছে।
আসামিরা দাবি করেন, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাদের গুলিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। মিসবাহের মতে, রামপুরা ও আবুল হোটেল এলাকায় ঘটনার পর অন্যান্য বাহিনীর সদস্য ও সাদা পোশাকধারীরা দ্রুত সরে গেছেন, তবে বি.জি.বি. কর্মকর্তারা সৎ সাহসের ভিত্তিতে অবস্থান বজায় রেখেছেন।
প্রতিবাদী দল দাবি করে, রাষ্ট্রের তাড়াহুড়ো তদন্তের ফলে ‘ডার্টি লন্ড্রি’র মতো কাজ করা হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত নিয়ে যাবে। মিসবাহের মতে, এই ধরনের তদন্তের ফলাফল কেবল নির্দোষ কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে, আর প্রকৃত দোষীকে সঠিকভাবে বিচার করা সম্ভব হবে না।
ট্রাইব্যুনালের ব্রিফিংয়ে হামিদুল মিসবাহ উল্লেখ করেন, তারা আদালতে তদন্তের স্বচ্ছতা, প্রমাণের যথার্থতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে চায়। তিনি জোর দেন, রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দায়কে বি.জি.বি. কর্মকর্তাদের ওপর চাপানো ন্যায়সঙ্গত নয়।
অধিকন্তু, মিসবাহের মতে, সামাজিক মিডিয়ার অতিরিক্ত হাইপ এবং জনমত গঠনের প্রক্রিয়া মামলাটিকে অতিরঞ্জিত করেছে, যা প্রকৃত সত্যকে ঢেকে রাখে। তিনি আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের নির্দোষতা প্রমাণের জন্য যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ট্রাইব্যুনাল আগামী সপ্তাহে অতিরিক্ত শোনানির আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। উক্ত শোনানিতে উভয় পক্ষের আইনজীবী তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবেন এবং তদন্তের ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, রামপুরা ২৮ হত্যামামলায় বি.জি.বি. কর্মকর্তাদের নির্দোষতা দাবি এবং তদন্তের স্বচ্ছতা প্রশ্নে উঠে এসেছে। আদালতে উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি শোনার পর, চূড়ান্ত রায় নির্ধারিত হবে, যা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জনমত ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



