আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছেন, বিদেশি হিসেবে ঘোষিত যে কোনো ব্যক্তিকে তৎক্ষণাৎ উচ্ছেদ করা হবে এবং পূর্বের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আর অনুসরণ করা হবে না।
বিপিএল শাসনকালে আসাম নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে অভিবাসী ও অনুপ্রবেশকারী বিষয়কে মূল এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরছে। এই প্রেক্ষাপটে শর্মার নতুন নীতি নির্বাচন প্রচারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে অবৈধ অভিবাসী সমস্যাকে ভোটারদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ সমর্থন পেয়ে শর্মা বলছেন, রাজ্যে যেকোনো ব্যক্তিকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা মাত্রই তাকে দেশের ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকরী আদেশ জারি হবে, আর কোনো কূটনৈতিক অনুমোদনের অপেক্ষা করা হবে না।
এর আগে, অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো। সেই পদ্ধতিতে বিদেশি ঘোষণার পর পারস্পরিক যাচাই এবং আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষা করা হতো।
শর্মা উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই নতুন কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি বলেন, পূর্বে কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করা হতো, তবে এখন তা পরিবর্তন করে সরাসরি উচ্ছেদের পথে অগ্রসর হওয়া হবে।
নতুন নীতি অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি হিসেবে ঘোষিত হয়, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। শর্মা জোর দিয়ে বলেন, আর কোনো আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষা করা হবে না, ফলে প্রক্রিয়ার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের পাশাপাশি আসামের পরিচয় রক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন, পরিচয়কে শাসননীতির অগ্রাধিকার থেকে আলাদা করা যায় না; পরিচয় রক্ষা না করলে উন্নয়নও অর্থহীন হয়ে যায়। তাই নতুন নীতি রাজ্যের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ।
শর্মা পূর্বে একটি অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছিলেন, যদি রাজ্যের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা আর ১০ শতাংশ বাড়ে, তবে আসাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাবে। এই মন্তব্যটি অভিবাসী সমস্যার প্রতি তার উদ্বেগের প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন, এই কঠোর নীতি আসাম নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে জাতীয় পরিচয় ও নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি প্রতিবেশী বাংলাদেশ সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় হতে পারে।
আসাম সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ও মানবিক বিষয়ক নতুন চ্যালেঞ্জ উদ্ভব হতে পারে। উভয় দেশের সরকারকে এখন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক অধিকার সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।
শর্মার ঘোষণার পর, আসামের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শাসন কাঠামোর উপর নজর বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল এবং নতুন নীতির বাস্তবায়ন কীভাবে রাজ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলবে।



