সরকারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মুনশিগঞ্জে একটি নতুন পাবলিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অনুমোদন প্রদান করেছে। এটি দেশের ৩৮তম সরকারি মেডিকেল কলেজ হিসেবে তালিকাভুক্ত হবে। অনুমোদনটি নীতিগত ভিত্তিতে দেওয়া হলেও, শিক্ষার কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমানের স্বাক্ষরে প্রকাশিত বৃত্তিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুধুমাত্র যথাযথ ভবন, ল্যাব ও হাসপাতাল সুবিধা তৈরি হওয়ার পরই শুরু করা যাবে। এই শর্তটি ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
মুনশিগঞ্জ জেলার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা যায়। জেলা-ভিত্তিক কৌশলগত অবস্থানকে বিবেচনা করে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই কলেজকে মানবসম্পদ সরবরাহে সুবিধাজনক বলে মূল্যায়ন করেছে।
তবে, শিক্ষার সূচনা সম্পর্কে চূড়ান্ত অনুমোদন আগামী সরকারী মেয়াদের মধ্যে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো বিশদ তথ্য বর্তমানে প্রকাশ করা হয়নি।
একই সময়ে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মোট ৫৭২টি সিট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবকাঠামো, মানবসম্পদ, হাসপাতাল সুবিধা এবং অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয়তার অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৪টি সরকারি মেডিকেল কলেজে মোট ৩৫৫টি সিট হ্রাস করা হয়েছে, যার মধ্যে আটটি প্রাচীনতম কলেজও অন্তর্ভুক্ত। এই সিট হ্রাসের ফলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি সংখ্যা কমবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপের পূর্বে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে পূর্ববর্তী সরকার ১,০৩০টি সিট বৃদ্ধি করেছিল। তবে, শিক্ষক, অবকাঠামো ও ল্যাবরেটরি সুবিধার ঘাটতির কারণে এই বৃদ্ধি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক দাবি করেন, পূর্বের সিট বৃদ্ধি রাজনৈতিক স্বার্থে করা হয়েছিল। আগস্ট ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গৃহীত অস্থায়ী প্রশাসন এই বিষয়গুলো পুনঃমূল্যায়ন করে সিট সংখ্যা হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেয়।
নতুন মেডিকেল কলেজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালও চালু হবে। তবে, অবকাঠামো সম্পন্ন হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, যা ভবিষ্যৎ শিক্ষার সূচনাকে প্রভাবিত করবে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদিও সিট হ্রাস স্বল্পমেয়াদে ভর্তি সুযোগ কমাতে পারে, তবে মুনশিগঞ্জে নতুন কলেজের প্রতিষ্ঠা দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
আসন্ন সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে শিক্ষার সূচনা তারিখ ও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে, তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অফিসিয়াল সূত্রের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



