ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ১ জানুয়ারি ঢাকা সফর করেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের সামনে সফরের ব্যাখ্যা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা উচিত নয়।
হোসেনের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ যাই হোক না কেন, দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ইতিবাচক চিত্র রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দলভেদে না গিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে খালেদা জিয়ার প্রতি এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং এই স্বীকৃতি পুরো অঞ্চলে স্বীকৃত।
এ কারণে খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় দেশের সকল স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করবে, যা স্বাভাবিক বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। জয়শঙ্করের সফরের মূল উদ্দেশ্যও এইই, তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছিলেন। সফরটি সংক্ষিপ্ত ছিল এবং হোসেন এটিকে শিষ্টাচারিক দৃষ্টিকোণ থেকে উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত কোনো ব্যাখ্যা বা অনুসন্ধান না করা উত্তম।
সফরের সময় আলোচনার বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে হোসেন জানান, জয়শঙ্করের সঙ্গে তার কথোপকথনে কোনো রাজনৈতিক বিষয় উঠে না। তিনি বলেন, আলোচনা সর্বসামনে হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক কোনো বিষয় আলোচনা করা হয়নি।
দুই দেশের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা কমবে কিনা তা নিয়ে হোসেনের মন্তব্য সংক্ষিপ্ত। তিনি বললেন, এর উত্তর ভবিষ্যতে সময়ের সাথে প্রকাশ পাবে এবং এখনই কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।
এই মন্তব্যের পটভূমিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তনও প্রভাব ফেলতে পারে। খালেদা জিয়া, যিনি পূর্বে প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপার্সন, তার মৃত্যুর পর দেশের রাজনৈতিক সমতা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে শীর্ষমন্ত্রীর শেখ হাসিনা, যিনি বহু মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি, তার নীতি ও কৌশলও দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে হোসেনের মন্তব্য একটি সতর্কতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, দু’দেশের মধ্যে কোনো গভীর দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অভাব থাকা সত্ত্বেও, শিষ্টাচারিক দিক থেকে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে উভয় দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।
সারসংক্ষেপে, জয়শঙ্করের সংক্ষিপ্ত ঢাকা সফর এবং হোসেনের প্রকাশ্য বক্তব্য দু’দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। উভয় পক্ষের জন্য এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে, তবে শিষ্টাচার ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।



