ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে এক আদেশ জারি করেন। আদেশে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও তার স্ত্রী হোসনোরা বেগমের নামে থাকা ২৮টি ব্যাংক হিসাব এবং পুঁজিবাজারে তাদের দুটি বিও (ব্রোকারেজ) হিসাব অবরুদ্ধ করার অনুমোদন দেওয়া হয়।
অভিযোগের ভিত্তি হল, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সন্দেহে তদন্ত চলছে। তদন্তকারী সংস্থা দাবি করে যে, বিপ্লব কুমার সরকার ও হোসনোরা বেগমের এই হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর বা অন্য কোনো রূপে ব্যবহার করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা জরুরি বলে আদালত সিদ্ধান্ত নেয়।
আদালতের বেঞ্চের সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, এই আদেশের পেছনে দুদকের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে সহকারী পরিচালক রাসেল রনি আবেদন করেছেন। রনি, দুদকের পক্ষ থেকে, সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো অবরুদ্ধের আবেদন করেন এবং আদালতকে অনুরোধ করেন যাতে কোনো আর্থিক লেনদেন বাধা দেওয়া যায়।
বিপ্লব কুমার সরকার ও হোসনোরা বেগমের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে, একই আদালত ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে তাদের এবং তাদের আত্মীয়দের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে তাদের ভাই প্রণয় কুমার সরকার ও হোসনোরার বোন শাহানারা বেগমও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই নিষেধাজ্ঞা তাদের বিদেশে যাত্রা রোধের উদ্দেশ্যে জারি করা হয়।
বিপ্লব কুমার সরকার ২১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের জগন্নাথ হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বেশিরভাগ সময় দাপুটে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১১ সালের ৬ জুলাই, বিএনপি কর্মসূচি চলাকালে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের পিটুনির শিকার হন। সেই ঘটনার নেতৃত্বে তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার হারুন অর রশীদ এবং অতিরিক্ত উপ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পূর্ব মুহূর্তে, ৩১ জুলাই ২০২৪ তারিখে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার হিসেবে বিপ্লব কুমারকে প্রশাসন ও গোয়েন্দা (ডিবি) দক্ষিণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সরকার পতনের পর, তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর থেকে তার অবস্থান অজানা রয়েছে।
অধিক তদন্তের জন্য আদালত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আর্থিক রেকর্ড, লেনদেনের বিবরণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, অবরুদ্ধ হিসাবের ওপর কোনো চ্যালেঞ্জ বা আপিলের আবেদন হলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে।
এই আদেশের ফলে, বিপ্লব কুমার সরকার ও হোসনোরা বেগমের আর্থিক সম্পদের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপিত হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুসারে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনগত প্রতিনিধিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের অবস্থান উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে।
সামগ্রিকভাবে, এই পদক্ষেপটি দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে আদালত কীভাবে এই মামলাটি পরিচালনা করবে এবং তদন্তের ফলাফল কী হবে, তা দেশের আইন শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।



