27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনেতান্যাহু ও ট্রাম্পের সাক্ষাৎ, গাজা চুক্তির বাস্তবায়নে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দ্বিধা

নেতান্যাহু ও ট্রাম্পের সাক্ষাৎ, গাজা চুক্তির বাস্তবায়নে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দ্বিধা

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতান্যাহু যুক্তরাষ্ট্রের সফর শেষ করে ফিরে আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে “বীর” ও “মিলিয়ন শতাংশ পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী” প্রশংসা পেয়েছেন। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০‑পয়েন্ট গাজা স্থগিত যুদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে নেতান্যাহু ধীর গতি বজায় রাখার অভিযোগ উঠে আসে, যা গাজা অঞ্চলে হোস্টিলিটি পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

এই চুক্তির মূল শর্তে গাজা থেকে সব বন্দি (জীবিত ও মৃত) মুক্তি, মানবিক সাহায্য সরবরাহ এবং সীমান্ত লাইন স্থবির রাখা অন্তর্ভুক্ত। এই শর্ত পূরণ হলে গাজা দ্বিতীয় পর্যায়ে অগ্রসর হবে, যেখানে একটি প্রযুক্তিগত “শান্তি বোর্ড” গঠন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার আলোচনা হবে।

অধিকাংশ মানবিক সাহায্য এখনও গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না, কারণ নেতান্যাহু সব প্রয়োজনীয় সরবরাহ অনুমোদন করেননি। তাছাড়া, তিনি দাবি করছেন যে হামাস শেষ বন্দি (মৃতদেহসহ) ফেরত না দিলে দ্বিতীয় পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তিনি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে হামাসের অস্ত্র ত্যাগের দাবি রাখছেন, যা ট্রাম্পের সঙ্গে সোমবারের সাক্ষাতের পর স্পষ্টভাবে সমর্থিত হয়েছে।

হামাস ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলি জোরপূর্বক অস্ত্র ত্যাগের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এই বিষয়টি অভ্যন্তরীণ ফিলিস্তিনি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়া উচিত বলে দাবি জানিয়েছে। ফলে, গাজা চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

নেতান্যাহুর বর্তমান অবস্থানকে বিশ্লেষণ করলে চারটি মূল কারণ দেখা যায়। প্রথমত, তার শাসনকালে গঠিত জোটের অধিকাংশই দেশের সবচেয়ে ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত, যা তাকে কঠোর নিরাপত্তা নীতি বজায় রাখতে এবং কোনো চুক্তি দ্রুত স্বীকার করতে বাধা দেয়।

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সমর্থন, বিশেষত ট্রাম্পের প্রশংসা, নেতান্যাহুকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে স্বস্তি দেয় এবং তার কৌশলগত পছন্দে স্বতন্ত্রতা বজায় রাখে। তৃতীয়ত, গাজা অঞ্চলে সামরিক সুবিধা বজায় রাখা ইসরায়েলকে ভবিষ্যতে হামাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সময়ে পুনরায় আক্রমণ চালানোর সুযোগ দেয়, যা রাজনৈতিকভাবে তাকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখে।

চতুর্থত, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক চাহিদা, যেমন নির্বাচনী সমর্থন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত জনমত, নেতান্যাহুকে চুক্তির শর্তে কঠোরতা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে, বিশেষ করে যখন হামাসের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ বা বন্দি ফেরত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো ধাপ অগ্রসর করতে ইচ্ছুক নয়।

এই পরিস্থিতিতে গাজা চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে হামাসের শর্ত পূরণ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধির উপর। যদি হামাস কোনো শর্তে সম্মত না হয়, তবে গাজা অঞ্চলে মানবিক সংকট বাড়তে পারে এবং পুনরায় যুদ্ধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন হয় বা নতুন মধ্যস্থতা উদ্যোগ উঠে আসে, তবে চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

সারসংক্ষেপে, নেতান্যাহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর ও ট্রাম্পের সমর্থন তাকে গাজা চুক্তি নিয়ে কৌশলগতভাবে ধীর গতি বজায় রাখতে সক্ষম করেছে, যা তার রাজনৈতিক জোট, নিরাপত্তা স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের সমন্বয়ে গঠিত। ভবিষ্যতে গাজা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য উভয় পক্ষের শর্ত পূরণ এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments