ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর – বাংলাদেশের তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শোকের ঘরে গমন করার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার এককন্যা তরিক রহমানকে আনুষ্ঠানিক শোকপত্র পাঠিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তিনবারের বেশি সময় ধরে দেশের শীর্ষমঞ্চে ছিলেন এবং বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রেখেছেন।
মোদি তরিক রহমানকে লিখিত বার্তায় জানান, তার মা’র অকাল প্রস্থান দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি শূন্যতা তৈরি করেছে, তবে তার আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি অটুট থাকবে। তিনি তরিকের নেতৃত্বে বিএনপি তার মায়ের নীতি অনুসরণ করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
চিঠিতে মোদি আরও উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার স্মৃতি নতুন সূচনা নিশ্চিত করবে এবং ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে পথপ্রদর্শক হবে। তিনি তরিককে ‘প্রিয় তরিক রহমান সাহেব’ বলে সম্বোধন করে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বুধবার ঢাকায় এসে তরিক রহমানের হাতে শোকপত্র হস্তান্তর করেন। তিনি তরিকের পরিবারকে সম্মান জানিয়ে ভারত সরকারের শোকবার্তা পৌঁছে দেন।
মোদি ২০১৫ সালের জুনে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও অটল বিশ্বাসের অধিকারী ছিলেন এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
মোদি তরিকের নেতৃত্বে বিএনপি তার মায়ের আদর্শকে বজায় রেখে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জোরদারিতে তার অবদানকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
চিঠিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক শক্তি ও মর্যাদার প্রশংসা করেন এবং তাদের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, এই গুণাবলী দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হতে সহায়ক হবে।
মোদি তরিককে শেষাংশে আবারও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে, তার মা’র আত্মা চিরশান্তিতে বিশ্রাম নিক, এই কামনা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার জন্য দু’দেশের নেতৃত্বের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেন।
এই শোকপত্রের মাধ্যমে ভারত সরকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে সমর্থন ও সহযোগিতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তরিকের নেতৃত্বে বিএনপি কীভাবে তার মায়ের নীতি অনুসরণ করবে এবং তা ভারতীয় কূটনীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।
মোদি ও জয়শঙ্করের এই পদক্ষেপগুলোকে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে শোকের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটেছে।



