কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কীভাবে কর্মসংস্থানকে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও শিল্পের অভ্যন্তরীণ জরিপগুলো দেখায় যে, ২০২৬ সালের মধ্যে AI শ্রমবাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) কর্তৃক নভেম্বর মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণায় প্রায় ১১.৭% চাকরি ইতিমধ্যে AI ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব বলে অনুমান করা হয়েছে। এই সংখ্যা কর্মসংস্থানের গঠনকে পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
বাজারের জরিপগুলোও প্রকাশ করেছে যে, কিছু নিয়োগকর্তা ইতিমধ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এন্ট্রি-লেভেল পদের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে, কিছু কোম্পানি কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে AI উল্লেখ করছে। এ ধরনের প্রবণতা দেখায় যে, এআই গ্রহণের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংস্থাগুলো তাদের মানবসম্পদ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।
একটি সাম্প্রতিক টেকক্রাঞ্চ জরিপে, বেশ কয়েকজন এন্টারপ্রাইজ ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট (VC) স্বীকার করেছেন যে, ২০২৬ সালে AI শ্রমবাজারে বড় প্রভাব ফেলবে। যদিও জরিপে সরাসরি এই প্রশ্নটি করা হয়নি, তবু উত্তরদাতারা ভবিষ্যৎ প্রবণতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেছেন।
একজন ভেঞ্চার ফান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও জেনারেল পার্টনার উল্লেখ করেছেন যে, পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের পাশাপাশি যুক্তি-ভিত্তিক জটিল কাজগুলোও স্বয়ংক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই স্বয়ংক্রিয়তা কি চাকরি হারানোর দিকে নিয়ে যাবে, নাকি উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে কর্মশক্তিকে সহায়তা করবে। তিনি ভবিষ্যতে ২০২৬ সালে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও সুনির্দিষ্ট রূপ এখনও অজানা।
একজন ফান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং পার্টনারও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, AI ব্যয়ের বৃদ্ধি সঙ্গে সঙ্গে মানবশক্তি ব্যয়ের হ্রাসের দিকে ধাবিত হবে। ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান হার হ্রাস পেতে পারে এবং ছাঁটাইয়ের হার বাড়তে পারে।
সফটওয়্যার বিনিয়োগে বিশেষজ্ঞ আরেকজন ম্যানেজিং ডিরেক্টরও উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৬ সালের বাজেট পরিকল্পনা মানবশক্তি থেকে AI-তে সম্পদ স্থানান্তরের সূচনা করবে। তিনি এআইকে শুধুমাত্র একটি সহায়ক টুল হিসেবে নয়, বরং মূল উৎপাদনশীলতার চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন।
একজন ব্যাটারি ভেঞ্চারসের ভেঞ্চার ইনভেস্টরও যোগ করেছেন যে, AI এখনো কেবল টুলের স্তরে সীমাবদ্ধ নয়; এটি কর্মীদের কাজের পদ্ধতিকে পুনর্গঠন করতে পারে। এআইকে কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন ধরনের কাজের সৃষ্টির সম্ভাবনা উভয়ই রয়েছে।
এইসব দৃষ্টিভঙ্গি একত্রে নির্দেশ করে যে, AI প্রযুক্তি দ্রুতই শ্রমবাজারের কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে। স্বয়ংক্রিয়তার ফলে কিছু কাজের চাহিদা কমে যেতে পারে, তবে একই সঙ্গে নতুন দক্ষতা ও কাজের সুযোগও উদ্ভূত হতে পারে। সংস্থাগুলোকে এই পরিবর্তনের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, যাতে মানবসম্পদ ও প্রযুক্তির সমন্বয় সুষ্ঠুভাবে হয়।
শিল্পের বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, AI গ্রহণের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো কর্মীদের পুনর্নবীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এভাবে, ২০২৬ সালে AI-র প্রভাবকে শুধুমাত্র হুমকি হিসেবে নয়, বরং উৎপাদনশীলতা ও উদ্ভাবনের সুযোগ হিসেবে দেখা সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, AI-র দ্রুত অগ্রগতি এবং এর সম্ভাব্য স্বয়ংক্রিয়তা কর্মসংস্থানের গঠনকে পুনর্গঠন করতে পারে। ২০২৬ সালের দিকে এই পরিবর্তন ত্বরান্বিত হতে পারে, যা সংস্থাগুলোকে মানবশক্তি ও প্রযুক্তির সমন্বয় নিয়ে নতুন নীতি গড়ে তুলতে বাধ্য করবে।



