পাকিস্তান বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ৩১ ডিসেম্বর ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সহিংসতা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমন্বয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে পাকিস্তান ইস্লামাবাদের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি পুনরায় জোর দিয়ে ইয়েমেনের স্থায়ী শান্তি ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সব ধরনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে।
বক্তব্যে তিনি ইস্লামাবাদের প্রতি দেশের সমর্থনকে পুনরায় জোর দিয়ে ইয়েমেনের ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তান ইস্লামাবাদের সঙ্গে সমন্বয়কে দেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে এবং এই সমন্বয়কে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে।
ইস্লামাবাদের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি পাকিস্তান দেশের স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে বলে স্পষ্ট করেছে। এ বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইস্লামাবাদের সঙ্গে সমন্বয় শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে আরব আমিরাতের পাঠানো অস্ত্রের চালানে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা ঘটায় পরিস্থিতি তীব্রতর হয়েছে। ওই হামলার ফলে বন্দরের আশেপাশের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
হামলার পর ইস্লামাবাদের সঙ্গে পাকিস্তানের সমন্বয় বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ পায়, যা অঞ্চলীয় উত্তেজনা কমাতে একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইস্লামাবাদের সঙ্গে সমন্বয়কে শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছে।
আন্দ্রাবি উল্লেখ করেন, ইয়েমেনে উত্তেজনা হ্রাস এবং শান্তি বজায় রাখতে আঞ্চলিক প্রচেষ্টা পাকিস্তানের কাছে স্বাগত এবং তা সমর্থনযোগ্য। তিনি বলেন, ইস্লামাবাদের সঙ্গে সমন্বয়ই এই লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তান আঞ্চলিক সংলাপকে অগ্রাধিকার দেবে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে ইয়েমেনের সমস্যার সমাধানে পাকিস্তান দৃঢ় সমর্থন বজায় রাখবে। পাকিস্তান ইস্লামাবাদের সঙ্গে সমন্বয়কে কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করবে এবং সমস্যার সমাধানে সকল সম্ভাব্য পথ অনুসন্ধান করবে।
পাকিস্তান আশা প্রকাশ করে, ইয়েমেনের জনগণ ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো একসাথে কাজ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থায়ী সমাধান গড়ে তুলবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সমাধানটি কেবল সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও মানবিক দিক থেকেও সমন্বিত হতে হবে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, পাকিস্তানের এই সমন্বয় ইস্লামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় পুনর্ব্যক্ত করা অঞ্চলের শক্তি ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করতে সহায়তা করবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘোষণাকে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তারা উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের সমন্বয় ইস্লামাবাদের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপকে ত্বরান্বিত করবে এবং ভবিষ্যতে সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।
তবে, মুকাল্লা বন্দরের সাম্প্রতিক হামলা এবং অস্ত্র সরবরাহের বিষয়গুলো এখনও সমাধানহীন রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিস্থিতি ইস্লামাবাদের সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
পাকিস্তান সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সংলাপ, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। তিনি বলেন, ইস্লামাবাদের সঙ্গে সমন্বয়কে কূটনৈতিক, নিরাপত্তা এবং মানবিক দিক থেকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
সংক্ষেপে, পাকিস্তান ইস্লামাবাদের সঙ্গে সমন্বয় পুনর্ব্যক্ত করে ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। এই সমন্বয় কেবল দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে।



