মন্ত্রী পরিষদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় (আইবিএম) ধুরন্ধর ছবির দুইটি শব্দ নীরব করে এবং একটি সংলাপ পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছে। সংশোধিত সংস্করণটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সব থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে।
ধুরন্ধর ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী হিন্দি চলচ্চিত্রের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। ২৬ দিনের মধ্যে ছবিটি মোট ৭৫৪.৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে এবং ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহগুলোতেও আয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিতরণকারী সংস্থা ৩১ ডিসেম্বর থিয়েটারগুলোকে ইমেইল পাঠিয়ে জানিয়েছে যে, ছবির ডিজিটাল সেন্টার প্রিন্ট (ডিসিপি) পরিবর্তন করা হবে। পরিবর্তনের কারণ হল মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে দুইটি শব্দ নীরব করা এবং একটি সংলাপ পরিবর্তন করা।
থিয়েটারগুলোকে নতুন ফাইল ডাউনলোড করে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সংশোধিত সংস্করণ প্রদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুসরণ না করলে সিনেমা হলগুলো পুরনো সংস্করণ চালাতে পারবে না।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন সংস্করণ থেকে মুছে ফেলা প্রথম শব্দটি হল ‘বালুচ’। অন্য দুটি শব্দ ও পরিবর্তিত সংলাপের বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ধুরন্ধর ছবিতে রানবীর সিং, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খন্না, আর. মধুয়ন, অর্জুন রামপাল এবং সারা অর্জুন প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ছবির লেখক ও পরিচালক আদিত্য ধর, এবং এটি জ্যোতি দেশপান্ডের জিও স্টুডিওস, লোকেশ ধর ও আদিত্য ধরের বি৬২ স্টুডিওসের সমন্বয়ে তৈরি।
কাহিনীটি একটি ভারতীয়ের গল্প, যিনি পাকিস্তানে গোপনে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। ছবিটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সীমান্তের উত্তেজনা, গোপন মিশন এবং ব্যক্তিগত ত্যাগের মিশ্রণকে চিত্রিত করে।
ধুরন্ধর ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পায়। প্রথম দিনগুলোতে টিকিট বিক্রি ধীরগতিতে শুরু হলেও, দর্শকদের মুখে মুখে প্রশংসা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ছবির আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
প্রথম সপ্তাহে ছবিটি ২১৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করে, যা শিল্পের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। দ্বিতীয় সপ্তাহে এই সংখ্যা ২৬১.৫০ কোটি টাকায় পৌঁছে, যা বক্স অফিসে অপ্রত্যাশিত উত্থান ঘটায়।
বিক্রয় প্রবণতা অব্যাহত থাকায়, ধুরন্ধর শীঘ্রই ৮০০ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। এই মাইলফলকটি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে নতুন রেকর্ড স্থাপন করবে।
আইবিএমের নির্দেশ মেনে সংশোধিত সংস্করণটি জানুয়ারি মাসে প্রদর্শিত হবে, ফলে দর্শকরা নতুন কাটা-ছাঁটা সংস্করণে ছবির মূল গল্প উপভোগ করতে পারবেন। চলচ্চিত্রের বক্স অফিসে প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ আয় সম্পর্কে শিল্পের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক রয়ে গেছে।



