বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নোয়াখালি এক্সপ্রেসের সহকারী কোচ নিয়াজ খানকে তদন্তের অধীনে রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় ইংরেজি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর নেওয়া হয়, যেখানে কোচের পূর্ববর্তী কর্মসংস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
বিসিবি প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়াজ খানকে দলের কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে নিয়োগের আগে তার পেশাগত পটভূমি সম্পূর্ণভাবে যাচাই করা হয়নি। পত্রিকায় উত্থাপিত উদ্বেগের পর, বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, বোর্ডের সব কর্মী ও কোচের পটভূমি স্বচ্ছ হতে হবে এবং কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তা দ্রুত সমাধান করা হবে। তিনি যোগ করেন, ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য এই ধরনের তদন্ত প্রয়োজনীয়।
নিয়াজ খান, যিনি নোয়াখালি এক্সপ্রেসের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন, তার পূর্বের চাকরির বিবরণে কিছু অস্পষ্টতা দেখা গিয়েছে। পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি পূর্বে কোন ক্লাব বা সংস্থায় কাজ করেছেন তা স্পষ্ট নয়, ফলে তার বর্তমান পদে নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিসিবি এই তদন্তকে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালনা করবে এবং ফলাফল জানাতে হবে। বর্তমানে কোন আনুষ্ঠানিক শাস্তি বা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; তবে তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালি এক্সপ্রেসের অন্যান্য কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা এই খবরের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবে তারা দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব না পড়ার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন। দলটি আসন্ন বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) মৌসুমে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিপিএল ২০২৫-২৬ মৌসুমে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের শিডিউল এখনও প্রকাশিত হয়েছে, এবং দলটি প্রথম ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। কোচিং স্টাফের মধ্যে এই ধরনের পরিবর্তন দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে, তবে বর্তমান পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বিসিবি উল্লেখ করেছে যে, কোচের পটভূমি যাচাই না হওয়া একটি বিচ্যুতি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর নীতি গৃহীত হবে। তিনি আরও বলেন, সব কোচ ও স্টাফের জন্য একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে।
নিয়াজ খানের ক্ষেত্রে তদন্তের সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অনুসারে, প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের পর দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, নোয়াখালি এক্সপ্রেসের ম্যানেজার দলটি মিডিয়ার প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি সকল নিয়ম মেনে চলবে এবং কোনো অস্বচ্ছতা না থাকলে দ্রুতই পরিষ্কার হবে।
বিসিবি এই ধরনের তদন্তকে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো খেলোয়াড়, কোচ বা স্টাফের পটভূমি যদি সন্দেহজনক হয়, তা দ্রুতই প্রকাশ্যে আনা হবে।
নিয়াজ খানকে নিয়ে তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের কোচিং স্টাফে কোনো পরিবর্তন হবে কিনা তা স্পষ্ট হবে। দলটি এখনো তার মৌসুমের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য মনোযোগী।
বিসিবি এবং নোয়াখালি এক্সপ্রেস উভয়ই এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার জন্য কাজ করছে, যাতে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় থাকে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।



