ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হতে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আবেদন জমা দিয়েছেন লন্ডন‑ভিত্তিক জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিম। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলের পরেও হলফনামায় কোনো স্বাক্ষর বা টিপ‑সই করেননি।
রেজাউল করিম, যিনি ব্যারিস্টার এবং রাজশাহীর দুর্গাপুরে বসবাস করেন, প্রথমে বিএনপি থেকে রাজশাহী‑৫ (পুঠিয়া‑দুর্গাপুর) আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে পার্টি থেকে অনুমোদন না পেয়ে তিনি স্বাধীনভাবে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সংশ্লিষ্ট ফরম পূরণ করেন। জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, তার নামের পাশে স্বাক্ষর বা টিপ‑সই অনুপস্থিত, এবং নির্ধারিত ঘরে কোনো চিহ্ন নেই।
রেজাউল করিমের ক্ষেত্রে এটি একা ঘটনা নয়। রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে চারজন হলফনামায় স্বাক্ষর বা টিপ‑সই না রেখে দাখিল করেছেন। রেজাউল করিমের হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিক ছিলেন এবং ২২ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন, যা তিনি তার আবেদনপত্রে তারিখ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, তার কাছে নগদে ৮০,৩৭,৩৯৫ টাকা রয়েছে বলে রেকর্ডে দেখা যায়।
রেজাউল করিমের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে, রাজশাহীর অন্য তিনজন প্রার্থীও হলফনামায় স্বাক্ষর না রেখে দাখিল করেছেন। তারা হলেন রাজশাহী‑৩ (পবা‑মোহনপুর) আসনের আমজনতার দল মনোনীত সাঈদ পারভেজ, রাজশাহী‑৪ (বাগমারা) আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত তাজুল ইসলাম খান এবং রাজশাহী‑৫ (পুঠিয়া‑দুর্গাপুর) আসনের বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) মনোনীত আলতাফ হোসেন মোলস্না।
সাঈদ পারভেজ, যিনি তার দল থেকে একমাত্র প্রার্থী, হলফনামার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “তড়িঘড়ি করে বিষয়টা এ রকম হয়ে গেছে। এখন কি হবে বুঝতে পারছি না। মনোনয়নপত্র বাতিল হলে আপিল করব।” তাজুল ইসলাম খান ও আলতাফ হোসেন মোলস্না সম্পর্কেও একই ধরণের তথ্য পাওয়া যায়, তবে তাদের সরাসরি মন্তব্য রেকর্ডে নেই।
রাজশাহীর রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার হলফনামায় স্বাক্ষর বা টিপ‑সই না থাকলে তা অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “হলফনামায় যদি স্বাক্ষর কিংবা টিপ‑সই দেওয়ার স্থান থাকে, তাহলে সেটি না দিলে অনিয়ম। তবে আমি এখনও সবগুলো হলফনামা দেখিনি, তাই এই বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করছি না।”
এই পরিস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রার্থীদের নথিপত্রের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রেজাউল করিমের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আবেদন এবং নগদ সম্পদের তথ্য নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনার অধীন হতে পারে। একই সঙ্গে, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা প্রার্থীদের জন্য রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা কী হবে, তা পরবর্তী ধাপে স্পষ্ট হবে।
প্রতিটি প্রার্থীর নথিপত্রের যথার্থতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন আদায় করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। যদি হলফনামার অনুপস্থিতি নির্বাচনের বৈধতাকে প্রভাবিত করে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের আবেদন বাতিল বা পুনরায় দাখিলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
রাজশাহীর নির্বাচনী প্রক্রিয়া এখনো চলমান, এবং রেজাউল করিমসহ অন্যান্য প্রার্থীর নথি সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরবর্তী পর্যায়ে কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



