ঢাকার নগর বাসিন্দারা শীতের সময় প্রচলিত লেপ বা আমদানি করা কম্বল থেকে কমফর্টারকে প্রধান গরমের উপকরণ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। হালকা, ধোয়া সহজ এবং ব্যবহারিক হওয়ায় এই পরিবর্তন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
একজন বেসরকারি চাকরিজীবী রুমানা পারভীন রিঙ্কি এই বছর শীতের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার সময় প্রথমবারের মতো কমফর্টার বেছে নেন। তিনি উল্লেখ করেন, কমফর্টার হালকা, ধোয়া যায় এবং ব্যবহার করা সহজ, যা ঢাকা শহরের শীতের তাপমাত্রার সঙ্গে মানানসই।
রিঙ্কির মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে কমফর্টারকে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে গ্রহণের হার বাড়ছে। স্থানীয় বাজারে কমফর্টারের দাম প্রায়ই প্রচলিত লেপের চেয়ে কম, যা বাজেট সচেতন গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয়।
স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো উৎপাদন বাড়িয়ে বিভিন্ন নকশা ও রঙের কমফর্টার বাজারে তুলছে, ফলে গ্রাহকদের পছন্দের পরিসর বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বৈচিত্র্যময় পণ্য সরবরাহের ফলে এই সেগমেন্টে নতুন প্রবণতা গড়ে উঠেছে।
শিল্পের বিশ্লেষকরা জানান, কমফর্টার শুধুমাত্র সাময়িক ফ্যাশন নয়, বরং নগর ঘরোয়া গরমের পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের সূচনা। হালকা ও পরিষ্কার রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য পণ্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধারার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হচ্ছে।
বাজার গবেষণার ভিত্তিতে কমফর্টার শিল্পের মোট মূল্যায়ন প্রায় দুইশো কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তবে এই পরিমাণ মূলত শহুরে গ্রাহকদের কাছ থেকে আসছে। গ্রামীণ এলাকায় এখনও লেপের ব্যবহার বেশি।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রয়েও তীব্র উত্থান দেখা গেছে। সাম্প্রতিক শীতল তরঙ্গের ফলে গ্রাহকরা অতিরিক্ত গরমের জন্য কমফর্টারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
দেশের বৃহত্তম কমফর্টার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্রান-আরএফএল গ্রুপ এই মৌসুমে গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বিক্রয় বৃদ্ধি রিপোর্ট করেছে। এই বৃদ্ধি বাজারের চাহিদা ও গ্রাহকের পছন্দের পরিবর্তনকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
প্রান-আরএফএল গ্রুপের মার্কেটিং ডিরেক্টর কামরুজ্জামান কামাল উল্লেখ করেন, শীতের তরঙ্গের প্রভাব ঢাকা ও অন্যান্য নগর এলাকায় স্পষ্ট, ফলে গ্রাহকরা কমফর্টারের সুবিধা দ্রুত বুঝতে পারছেন।
প্রান-আরএফএল দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার ইউনিট উৎপাদন করে, যার মূল্য ১,৩০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই পরিসর বিভিন্ন আয় স্তরের গ্রাহকের জন্য উপযুক্ত বিকল্প সরবরাহ করে।
ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশে গরমের জন্য তুলার লেপ বা চীন, কোরিয়া, থাইল্যান্ডের আমদানি করা কম্বল ব্যবহার করা হতো। তবে কমফর্টার ব্যবহারিকতা ও রক্ষণাবেক্ষণের সহজতার কারণে ধীরে ধীরে এই পণ্যগুলোকে প্রতিস্থাপন করছে।
কমফর্টারের হালকা গঠন, দ্রুত শুকানোর সুবিধা এবং পরিষ্কার করার সহজতা গ্রাহকদের জন্য প্রধান আকর্ষণ। ফলে শীতের সময় ঘুমের মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি ব্যয়ও কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, শীতের মৌসুমে কমফর্টার ঘুমের প্রধান উপকরণে পরিণত হবে এবং ভবিষ্যতে লেপের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
প্রান-আরএফএল বাজারে শীর্ষস্থান দখল করলেও, অন্যান্য হোম টেক্সটাইল কোম্পানি এবং কুশন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সেগমেন্টে প্রবেশ করেছে, যা প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে বাজারকে আরও গতিশীল করে তুলবে।



