ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সারদার আয়াজ সাদিক আজ ঢাকা শহরে একত্রিত হয়ে শোকস্মরণে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানালেন। দুজনেই প্রাক্তন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পূর্বে শহরে উপস্থিত হয়ে হাত মেলিয়ে পারস্পরিক সম্মান প্রকাশ করেছেন। এই সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অফিসের ফেসবুক পৃষ্ঠায় প্রকাশিত একটি সরকারি পোস্টে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ড. জয়শঙ্কর সকাল ১১:৩০ টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তার আগমনের সময় বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং ভারতীয় হাই কমিশনার উপস্থিত ছিলেন, যারা তাকে স্বাগত জানিয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করেন।
পাকিস্তানের স্পিকার আয়াজ সাদিক প্রায় ১১:৫০ টায় একই বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তার স্বাগত জানাতে পাকিস্তানের হাই কমিশনার এবং বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা তার নিরাপদ প্রবেশ নিশ্চিত করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুতি নেন।
খালেদা জিয়া, যিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) চেয়ারপার্সন এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তার শোকস্মরণে দেশজুড়ে রাজনৈতিক দল ও আন্তর্জাতিক নেতারা সমবেত হয়েছেন। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে, এবং এই সময়ে দেশীয় ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নেতাদের উপস্থিতি শোকের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচনের ইঙ্গিত দেয়।
শোকস্মরণে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন, যা অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতার নতুন সূচনার সম্ভাবনা নির্দেশ করে। দু’দেশের নেতারা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, শোকের মুহূর্তে পারস্পরিক সমর্থন ও সংলাপের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাক্ষাৎকারকে দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করেছে। মন্ত্রকের কর্মকর্তারা জানান, দু’দেশের নেতাদের এই ধরনের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, আজকের এই সাক্ষাৎকারকে একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সেতু হিসেবে দেখা হচ্ছে। দু’দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শোকের মুহূর্তে একে অপরকে সমর্থন জানিয়ে, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময় ক্ষেত্রের সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে, খালেদা জিয়ার শোকস্মরণে উপস্থিতি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সাময়িক ঐক্যের ইঙ্গিত দেয়। তবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, শোকের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা পুনরায় তীব্র হতে পারে, বিশেষত নির্বাচনী প্রস্তুতি ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে।
আসন্ন দিনগুলোতে, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই ঢাকা শহরে আরও কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদল পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই আলোচনাগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক শুল্ক ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সমন্বয় ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। দু’দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে পরবর্তী বৈঠকের তারিখ ও এজেন্ডা নির্ধারণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এই সমাবেশটি দেশের শোকের পরিবেশে একটি অতিরিক্ত স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।



