কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উপকূলীয় জলে মাছ শিকারী কিলার তিমি (অর্কা) এবং প্যাসিফিক সাদা‑পাশের ডলফিন একসাথে দেখা গেছে। গবেষক দল এই ঘটনাটি চার দিনের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নথিভুক্ত করেছে এবং শিকারের পদ্ধতিতে পারস্পরিক সহযোগিতার ইঙ্গিত পেয়েছে। এই গবেষণার নেতৃত্বে ডালহাউসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক পরিবেশবিদ সারা ফর্চুন এবং তার সহকর্মীরা ছিলেন।
অর্কা এবং প্যাসিফিক সাদা‑পাশের ডলফিন উভয়ই মাছভোজী এবং সাধারণত স্বাধীনভাবে শিকার করে থাকে। তবে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দু’প্রজাতি একই সময়ে একই জলে উপস্থিত হলেও তারা একই মাছের জন্য সরাসরি প্রতিযোগিতা করে না। বরং তিমি এবং ডলফিনের চলাচলে সূক্ষ্ম সমন্বয় দেখা যায়, যা স্বতঃসিদ্ধভাবে একটি সংগঠিত প্যাটার্ন নির্দেশ করে।
গবেষকরা ড্রোন ব্যবহার করে উভয় প্রজাতির চলাচল রেকর্ড করেন এবং পানির নিচে সোনার তরঙ্গ (সোনার) ব্যবহার করে নিকটবর্তী স্যামনের উপস্থিতি নির্ণয় করেন। তদুপরি, নয়টি কিলার তিমির পেটের নিচে চোষা‑কাপ ট্যাগ সংযুক্ত করা হয়, যেগুলিতে ক্যামেরা ও অডিও রেকর্ডার থাকে এবং তিমির গতি ও আচরণ রিয়েল‑টাইমে ট্র্যাক করা যায়।
চার দিনের পর্যবেক্ষণে তিমি ডলফিনের গভীর ডাইভ অনুসরণ করেছে মোট ২৫ বার। এই ডাইভগুলো ডলফিনের ইকোলোকেশন কলের মাধ্যমে স্যামনের গুচ্ছ সনাক্ত করার সম্ভাবনা নির্দেশ করে, যা তিমি শিকারের সময় ব্যবহার করতে পারে। গবেষকরা অনুমান করেন, তিমি ডলফিনের কলকে ‘স্কাউট’ হিসেবে ব্যবহার করে শিকারের স্থান দ্রুত নির্ধারণ করে।
ড্রোনের ভিডিওতে তিমি ও ডলফিনের সমন্বিত সাঁতার স্পষ্টভাবে দেখা যায়; ডলফিন প্রায়শই তিমির মাথার কাছে অবস্থান করে। এই অবস্থানগত নিকটতা শিকারের সময় ডলফিনকে তিমির সামনে গাইডের ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিমি যখন স্যামন ধরতে বা হত্যা করতে প্রস্তুত হয়, তখন ডলফিনের উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড করা হয়েছে।
দেখা গেছে, তিমি শিকারের সময় বা শিকারের পর স্যামন ভাগ করে নেওয়ার আটটি ঘটনায় ডলফিন চারটি সময়ে উপস্থিত ছিল। এই ভাগাভাগির সময় ডলফিন কখনও কখনও অবশিষ্ট মাছের টুকরা খাওয়া দেখা গেছে। ফলে ডলফিনের অংশগ্রহণ শুধুমাত্র স্কাউটিং নয়, শিকারের ফলাফলেও অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়।
সামগ্রিক ডেটা নির্দেশ করে যে তিমি ও ডলফিনের মধ্যে শিকারের সময় পারস্পরিক সুবিধা থাকতে পারে। ডলফিনের ইকোলোকেশন কল তিমির শিকারের দক্ষতা বাড়াতে পারে, আর তিমি ডলফিনকে বড় মাছের গুচ্ছের দিকে নির্দেশ করে। এই ধরনের পারস্পরিক সহায়তা সামুদ্রিক শিকারের জটিলতা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
এই গবেষণার ফলাফল সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমে শিকারের আচরণকে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। পূর্বে তিমি ও ডলফিনকে স্বতন্ত্র শিকারী হিসেবে ধরা হতো, তবে এখন তাদের মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতা স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এই পারস্পরিক সম্পর্কের প্রকৃতি স্পষ্ট করতে সহায়তা করবে।
গবেষক দল ড্রোন, সোনার এবং ট্যাগের সমন্বয় ব্যবহার করে সমুদ্রের নিচের গোপনীয়তা উন্মোচন করেছে, যা সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের গবেষণায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। এই পদ্ধতি অন্যান্য অঞ্চলের শিকারের আচরণ অধ্যয়নে পুনরায় প্রয়োগ করা যেতে পারে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উপকূলীয় জলাশয় এই পর্যবেক্ষণের প্রধান স্থান, যেখানে স্যামনের প্রাচুর্য তিমি ও ডলফিন উভয়ের জন্য আকর্ষণীয় শিকারের ক্ষেত্র তৈরি করে। এই অঞ্চলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য শিকারের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
অবশেষে, গবেষকরা এই ফলাফলকে বিজ্ঞান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শেয়ার করে আরও গবেষণা ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিমি ও ডলফিনের সম্ভাব্য যৌথ শিকারের প্রমাণ সামুদ্রিক পরিবেশের জটিলতা ও অভিযোজনশীলতা প্রকাশ করে, যা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। আপনি কি মনে করেন, এই ধরনের পারস্পরিক শিকারের আচরণ অন্য সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষেত্রেও বিদ্যমান হতে পারে?



