ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে মেট্রোরেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন আজ, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাতের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তটি ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিকেল সাড়ে চারটায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্মানিত যাত্রীসাধারণের জানার জন্য জানানো হচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আজকের মেট্রোরেল অপারেশনের অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন ব্যবহার করা যাবে না। বিজ্ঞপ্তিতে স্টেশনের বন্ধের কারণ সম্পর্কে কোনো বিশদ দেওয়া হয়নি, ফলে যাত্রীরা এই পরিবর্তন সম্পর্কে স্বল্প সময়ে জানার সুযোগ পেয়েছেন।
সেই দিন মেট্রোরেলের সব অন্যান্য স্টেশন স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল এবং কোনো সেবা বিঘ্ন ঘটেনি। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে জানানো হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত ট্রেন চালু করা হবে। এই ব্যবস্থা দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের শেষকৃত্য সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। শোককালীন সময়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় আতশবাজি, পটকা, ফানুস, গ্যাস বেলুন ইত্যাদি ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা ইংরেজি নতুন বছরের আগমনের সঙ্গে যুক্ত, যাতে শোকের পরিবেশে কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ না ঘটে।
মেট্রোরেল ব্যবহারকারীদের জন্য এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনটি ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত এবং শিক্ষার্থী, কর্মী ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রধান প্রবেশদ্বার। স্টেশন বন্ধ থাকলে বিকল্প রুট হিসেবে নিকটস্থ রোড ট্রান্সপোর্ট, সাইকেল, অথবা অন্যান্য মেট্রোরেল স্টেশন থেকে বাস বা রিকশা ব্যবহার করা যেতে পারে। যাত্রীরা পরিকল্পনা করে চললে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়ানো সম্ভব হবে।
শহরের অন্যান্য মেট্রোরেল স্টেশনগুলো আজ সম্পূর্ণ সেবা প্রদান করেছে, তাই যাত্রীরা রুট পরিবর্তন করে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। বিশেষ করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন থেকে নিকটবর্তী রোড ২ এবং রোড ৩ এর বাস স্টপগুলো ব্যবহার করে ক্যাম্পাসের ভেতরে পৌঁছানো সম্ভব। এছাড়া, ক্যাম্পাসের ভিতরে চলাচলকারী সাইকেল ও পেডেস্ট্রিয়ান পথগুলোও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
শোককালীন সময়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। ডিএমপি কর্তৃক প্রকাশিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই, আতশবাজি বা কোনো ধরনের পেট্রোলিয়াম ভিত্তিক পণ্য ব্যবহার না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।
মেট্রোরেল ব্যবহারকারীদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: স্টেশন বন্ধের আগে আপনার যাত্রা পরিকল্পনা করে নিন এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে আগেই জানুন। মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন মানচিত্রে রিয়েল-টাইম ট্রাফিক ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের তথ্য চেক করলে অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট হবে না। এছাড়া, যদি আপনি ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য যাচ্ছেন, তবে রোড ট্রান্সপোর্টের সময়সূচি আগে থেকে যাচাই করে নিলে সুবিধা হবে।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ না করা হলেও, শোকের পরিবেশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। ভবিষ্যতে স্টেশন পুনরায় খোলার সময়সূচি সম্পর্কে কোনো আপডেট হলে তা আবার জানানো হবে।
যাত্রীরা এই সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করে, বিকল্প রুট ব্যবহার করে এবং শোকের সময়ে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চললে তাদের যাত্রা নিরাপদ ও সুষ্ঠু হবে।



