নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা আজ ঢাকায় চিফ অ্যাডভাইজার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে স্টেট গেস্ট হাউস জামুনায় বৈঠক করেন। এই সাক্ষাৎকারটি চিফ অ্যাডভাইজারের প্রেস উইং জানিয়েছে এবং একই সময়ে শর্মা তার দেশের পক্ষ থেকে ত্রিবার্ষিক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার শোকসভায় অংশগ্রহণের পর অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের মূল বিষয় ছিল দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, বিশেষ করে বাণিজ্য, পর্যটন ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব। শর্মা নেপালের বর্তমান পররাষ্ট্র নীতি ও আঞ্চলিক সংহতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ইউনুসও নেপালের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করার জন্য পারস্পরিক সুবিধাজনক প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছেন।
শর্মা এই সফরের আগে খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রদেহে শোক প্রকাশের জন্য বাংলাদেশে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নেপালের সরকারী প্রতিনিধিত্বে শ্রীমতি জিয়ার শোকসভায় অংশ নেন এবং তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে দেন। শর্মা উল্লেখ করেন যে, নেপাল ও বাংলাদেশ উভয়ই দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
বালা নন্দা শর্মা মঙ্গলবার রাতেই ঢাকায় পৌঁছান এবং তৎক্ষণাৎ খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রদেহে শোকসভায় অংশ নেন। তার সফরটি নেপালের সরকারী দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশন হিসেবে বিবেচিত, যেখানে দু’দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও শোক প্রকাশের দু’টি মূল কাজ একসাথে সম্পন্ন হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এই অনুষ্ঠানটি দেশের শোকময় পরিবেশের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় এবং শর্মা এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন না, তবে তিনি এই ঘটনার তথ্য জানেন।
চিফ অ্যাডভাইজারের প্রেস উইং উল্লেখ করেছে যে, শর্মা ও ইউনুসের বৈঠকটি দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপকে আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে যৌথ প্রকল্প, বিশেষ করে অবকাঠামো ও শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, নেপাল ও বাংলাদেশ উভয়ই দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, শর্মার এই সফর নেপালের আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে দু’দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখবে। বিশেষ করে, নেপালের সরকারী দল ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থন ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংহতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বালা নন্দা শর্মার ঢাকায় সফর দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে একত্রিত করেছে: একদিকে খালেদা জিয়ার শোকসভায় নেপালের সমবেদনা প্রকাশ, অন্যদিকে চিফ অ্যাডভাইজার মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিক নির্ধারণ। এই বৈঠকটি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে।



