22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমালি ও বুরকিনা ফাসো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে

মালি ও বুরকিনা ফাসো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে

মালি এবং বুরকিনা ফাসো ৩০ ডিসেম্বর রাতে একে অপরের পরপর দুটি ঘোষণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত জানায়। উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়, যা তাদের নাগরিকদেরও সমান শর্তে ভ্রমণ করতে বাধ্য করবে।

মালির সরকার ও বুরকিনা ফাসোর কর্তৃপক্ষের মতে, এই নীতি তাদের নাগরিকদের ওপর আরোপিত শর্তের সমতুল্যভাবে মার্কিন নাগরিকদেরও তাদের দেশে প্রবেশের সময় একই নিয়মের মুখোমুখি করা হবে। এভাবে পারস্পরিক সমতা রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ন্যায্যতা বজায় রাখা তাদের মূল লক্ষ্য।

বুরকিনা ফাসো বিশেষভাবে উল্লেখ করে, তারা মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘সমতুল্য ভিসা ব্যবস্থা’ প্রয়োগ করবে। দেশটি জোর দিয়ে বলে যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিময়ের নীতি অনুসরণ করা অপরিহার্য এবং এই নীতি অনুসরণে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময়ে, একই ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বিভিন্ন দেশে আরোপ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবিরোধী লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বুরকিনা ফাসোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এই দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বুরকিনা ফাসোর নাগরিকদের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

মালির ক্ষেত্রে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে, মালি সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সারা দেশে সংঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং কিছু অঞ্চলে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করছে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র মালির নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে মোট উনিশটি দেশ এবং ফিলিস্তিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও অনুরূপ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে, নাইজেরিয়ার পাশাপাশি মালি ও বুরকিনা ফাসোও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হয়। এই তিনটি দেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছে এবং তাদের নীতি পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকেছে।

উল্লেখযোগ্য যে, মালি, বুরকিনা ফাসো এবং নাইজেরিয়া বর্তমানে সামরিক নেতাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এই নেতারা রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং ফরাসি ও মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।

মালি ইতিমধ্যে রাশিয়ান বাহিনীর স্বাগত জানিয়েছে। রাশিয়ার ভাড়াটে গোষ্ঠী ওয়াগনারের প্রায় দেড় হাজার সৈনিক এবং ক্রেমলিন-নিয়ন্ত্রিত আধা-সামরিক বাহিনী ‘আফ্রিকা কর্পস’ এর প্রায় এক হাজার যোদ্ধা মালিতে অবস্থান করছে। এই উপস্থিতি অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি মালির বামাকোতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে, মালি, বুরকিনা ফাসো এবং নাইজেরিয়া একত্রে সশস্ত্র সহযোগিতা ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা করেছে। এই সম্মেলনটি তাদের রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments