ঢাকা – ৩১ ডিসেম্বর, ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ উদযাপনের উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশ ও বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশী নাগরিককে শুভেচ্ছা জানিয়ে নতুন বছরের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই মাসে ঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে এবং নতুন বছর দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে কাজ করবে।
ড. ইউনূসের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সংস্কার করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে নতুন বছরে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের অধীনে গণভোটের মাধ্যমে সম্পূর্ণ করা হবে। তিনি এই পরিকল্পনাকে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
“জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন বছর আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মেরামত করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে যাত্রা আমরা শুরু করেছি, নতুন বছরে একটি জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা পূর্ণতা পাবে বলে আমরা আশা করছি,” ড. ইউনূস এই বাণীতে বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও যোগ করেন, “সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে এ নির্বাচন ও গণভোট আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে—নতুন বছরে এটিই আমাদের সবচাইতে বড় প্রত্যাশা।” তিনি নতুন বছরের প্রতীকী অর্থকে তুলে ধরে বলেন, নববর্ষ মানে নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা এবং নতুন সম্ভাবনার সূচনা, যা জনগণকে অনুপ্রেরণা দেবে।
বক্তব্যের শেষে ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, “আমি আশা করি, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা সবাই দেশকে ভালোবেসে মানুষের কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। নতুন বছরে সকল চ্যালেঞ্জ একসাথে মোকাবিলা করে একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।” এই কথাগুলো দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি তার দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, এখন পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দলগুলো ড. ইউনূসের এই ঘোষণার উপর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করেনি। তবে পূর্বে কিছু বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যা নতুন বছরের পরিকল্পনার বাস্তবায়নে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
ড. ইউনূসের এই বাণী দেশের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে নতুন বছরের প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের সূচনা নির্দেশ করে। যদি পরিকল্পিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা ও সকল রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে কিনা, তা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হবে।
সারসংক্ষেপে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নতুন বছরের বার্তা দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন, জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত। এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের পরবর্তী বিকাশ নির্ধারণ করবে।



