শ্রীলঙ্কার অধিবয়সী ক্রিকেটার আকশু ফার্নান্দো, দীর্ঘ সময় কোমায় কাটিয়ে ৩৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর দক্ষিণ কলম্বোর মাউন্ট লাভিনিয়া এলাকায় ঘটিত ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাত পেয়ে দীর্ঘকাল লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। কয়েক বছর পর, কোমা থেকে না ফেরার অবস্থায়ই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল যখন ফার্নান্দো অনুশীলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে অরক্ষিত রেলপথ অতিক্রম করার চেষ্টা করেন এবং ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। আঘাতের পর তাকে তীব্র চিকিৎসা সেবা দিতে হয় এবং বেশিরভাগ সময় তাকে জীবনীশক্তি বজায় রাখতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসা সংস্থার মতে, আঘাতের তীব্রতা এবং পরবর্তী জটিলতা তাকে দীর্ঘমেয়াদী অচেতন অবস্থায় রাখে।
ক্রিকেটের দুনিয়ায় ফার্নান্দোর নাম প্রথমবার উঠে আসে ২০১০ সালের অধিবয়সী বিশ্বকাপে, যেখানে তিনি শ্রীলঙ্কা দলের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। সেই টুর্নামেন্টে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে ৫২ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোর করেন, যদিও শ্রীলঙ্কা দল শেষ পর্যন্ত হারে যায়। তার এই পারফরম্যান্সকে স্মরণ করে বলা যায়, তিনি সেই সময়ের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাটসম্যান ছিলেন।
সেমি-ফাইনালের ম্যাচে ফার্নান্দোর সঙ্গে খেলেছিলেন ভানুকা রাজাপাকস এবং দানুশ্কা গুনাথিলাকা, যাঁরা বর্তমানে শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলে সক্রিয়। ফার্নান্দোর ৫২ রান সেমি-ফাইনালের একমাত্র অর্ধশতক ছিল, যা তার আক্রমণাত্মক শৈলীর প্রতিফলন। যদিও দলটি পরাজিত হয়, তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে বিশ্লেষকরা প্রশংসা করেন।
দেশীয় ক্রিকেটে ফার্নান্দোর অবদানও উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রথম শ্রেণির ৩৯টি ম্যাচে মোট ১,০৬৭ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে একটি সেঞ্চুরি এবং পাঁচটি পঞ্চাশের বেশি স্কোর রয়েছে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তিনি ২৯৮ রান করেন এবং একবার পঞ্চাশের বেশি স্কোর করেন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৯টি ম্যাচে ২০০ রান যোগ করেন, যা তার বহুমুখী ব্যাটিং ক্ষমতাকে নির্দেশ করে।
দুর্ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে, ফার্নান্দো রাগামা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি করেন। এই সেঞ্চুরি তার ক্যারিয়ারের শীর্ষ মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে ইঙ্গিত করে। তবে ট্রেনের ধাক্কা তার স্বপ্নকে তৎক্ষণাৎ থামিয়ে দেয়, এবং তিনি ২৭ বছর বয়সে এই বিপর্যয়জনক ঘটনার শিকার হন।
ব্যাটিং ছাড়াও ফার্নান্দো অফ-স্পিনে কার্যকর ছিলেন। প্রথম শ্রেণিতে তিনি ১১টি উইকেট নেন, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি উভয় ফরম্যাটে সাতটি করে উইকেট সংগ্রহ করেন। তার এই বহুমুখী দক্ষতা তাকে দলীয় কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম করত।
ফার্নান্দোর অকাল মৃত্যু শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার পরিবার, সহকর্মী এবং ভক্তরা এই ক্ষতির শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রাখতে চায়।
৩৪ বছর বয়সে কোমা থেকে না ফেরার পর ফার্নান্দোর মৃত্যু শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ইতিহাসে এক দুঃখজনক অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে। তার অর্জিত রেকর্ড, সেমি-ফাইনালের স্মরণীয় পারফরম্যান্স এবং দেশীয় ক্রিকেটে অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মরণীয় থাকবে।



