আফ্রিকান ফুটবলের শীর্ষ সংস্থা CAF-এ এক নতুন বিতর্ক উদ্ভূত হয়েছে। গ্যাবোনের ফুটবল ফেডারেশন (Fegafoot) প্রেসিডেন্ট পিয়েরে‑আলাঁ মুংগুয়েংগুইকে ২০২৩ সালের নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া নিয়ে জেনারেল সেক্রেটারি ভারন মসেংগো‑ওম্বা সিদ্ধান্তে অগ্রাহ্য করেছেন।
মুংগুয়েংগুইকে গ্যাবোনীয় ফুটবলে যৌন নির্যাতন ও নাবালকদের ওপর ধর্ষণের অভিযোগের মুখোমুখি করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো প্রথমবার ২০২১ সালে গার্ডিয়ান প্রকাশিত এক সিরিজ প্রতিবেদনে উঠে আসে। যদিও তিনি নিজে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হননি, তবে তিনি এই ঘটনাগুলোতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছেন।
মুংগুয়েংগুইকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়নি, তবে গ্যাবোনের বিচারিক প্রক্রিয়ায় তিনি ছয় মাসের জন্য জেলখানায় ছিলেন, যেখানে তিনি মামলার চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করছিলেন। এই সময়ে CAF প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস মোটসেপে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
CAF-এ নির্বাহী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় মোট ২৪ জন সদস্য থাকে, যার মধ্যে মোটসেপে ও মসেংগো‑ওম্বা অন্তর্ভুক্ত। এই কমিটি আফ্রিকান ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেমন আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সময়সূচি নির্ধারণের দায়িত্বে থাকে। নির্বাচনের জন্য সব প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই করার কাজটি গভার্নেন্স কমিটি সম্পাদন করে।
গভার্নেন্স কমিটির বেশিরভাগ সদস্য—একটি মাত্র ব্যতিক্রম বাদে—মুংগুয়েংগুইকে অযোগ্য বলে মত প্রকাশ করেন। তবে মসেংগো‑ওম্বা এই সুপারিশকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে নির্বাচনের জন্য অনুমোদন দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্যাবোনের ফুটবলে চলমান যৌন নির্যাতন মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মুংগুয়েংগুইয়ের অযোগ্যতার সুপারিশ প্রত্যাখ্যানের পেছনে মসেংগো‑ওম্বার কী কারণ রয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে গভার্নেন্স কমিটির কিছু সদস্যের মতে, এই সিদ্ধান্তটি প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ও নৈতিক মানদণ্ডের প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
CAF-এ এই ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল গ্যাবোনের নয়, পুরো মহাদেশের ফুটবল প্রশাসনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যদি কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের পরও তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোও অনুরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে।
এই ঘটনার পর গ্যাবোনের ফুটবল ফেডারেশন কিছু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা বলেছে যে ভবিষ্যতে যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ বা সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।
CAF-এ এই বিতর্কের ফলে গভার্নেন্স কমিটির ভূমিকা ও স্বতন্ত্রতা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক দাবি করেন যে কমিটির সিদ্ধান্তগুলোকে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।
মসেংগো‑ওম্বা এবং মোটসেপের নেতৃত্বে CAF এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান করবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা FIFA-র দিকনির্দেশনা অনুসারে, সদস্য সংস্থাগুলোর উচিত ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে যুবক খেলোয়াড়দের সুরক্ষায়।
এই পরিস্থিতি গ্যাবোনের ফুটবলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। যদি অভিযোগগুলো যথাযথভাবে সমাধান না হয়, তবে গ্যাবোনের তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশ্বাসের ক্ষতি হতে পারে এবং দেশের ফুটবলের আন্তর্জাতিক সুনাম নষ্ট হতে পারে।
CAF-এ চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং গভার্নেন্স কমিটির সুপারিশের প্রত্যাখ্যানের পর, ভবিষ্যতে কী ধরনের সংস্কার আনা হবে তা নিয়ে আলোচনার তীব্রতা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং খেলোয়াড়দের সুরক্ষার প্রতি অঙ্গীকারের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



