22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিডেনমার্ক ৪০১ বছর পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ডাক চিঠি পরিষেবা বন্ধ...

ডেনমার্ক ৪০১ বছর পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ডাক চিঠি পরিষেবা বন্ধ করে

ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় পোস্টাল সংস্থা পোস্টনর্ড ২০২৫ সালের শেষের দিকে দেশের ঐতিহাসিক ডাক চিঠি পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ৪০১ বছরের দীর্ঘ ঐতিহ্যের পর, এই পদক্ষেপটি দেশের ডিজিটাল যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং চিঠির চাহিদা হ্রাসের ফলে নেওয়া হয়েছে।

ডেনমার্কের ডাক সেবা ১৬২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন সরকারি পরিষেবা হিসেবে পরিচিত ছিল। পোস্টনর্ডের মতে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে শেষ চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয় এবং এরপর থেকে কেবল পার্সেল ও প্যাকেজ ডেলিভারিতে মনোযোগ দেওয়া হবে।

ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তার, ইমেল, মেসেজিং অ্যাপ এবং অনলাইন পেমেন্টের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ডেনমার্কের নাগরিকদের চিঠি লেখার ও পাঠানোর প্রয়োজন কমে গেছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোও অফিসিয়াল নথিপত্রের জন্য ইন্টারনেট ভিত্তিক সেবা গ্রহণ করেছে, ফলে শারীরিক চিঠির ব্যবহার নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

পোস্টনর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে দেশের চিঠির পরিমাণ প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। ২০০০ সালের পর থেকে চিঠি লেখার হার ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংস্থাটি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই প্রবণতা বিবেচনা করে, পোস্টনর্ডের প্রধান নির্বাহী কিম পেডারসেন উল্লেখ করেছেন যে, চিঠি বিতরণ একটি যুগের সমাপ্তি এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে পার্সেল ও ই‑কমার্সের ওপর জোর দেওয়া হবে।

কিম পেডারসেনের মতে, ডেনমার্কের বর্তমান বাজারে পার্সেলের চাহিদা চিঠির তুলনায় অনেক বেশি, এবং ই‑কমার্সের দ্রুত বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “একটি দীর্ঘ ইতিহাসের পর এখন আমরা নতুন সেবা, যেমন ডিজিটাল মেইলবক্স এবং মোবাইল পেমেন্ট, আরও শক্তিশালীভাবে চালু করছি।”

সরকারি দপ্তর ও আদালতগুলো ইতিমধ্যে কাগজের চিঠির পরিবর্তে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নথিপত্র আদান‑প্রদান করছে। এই পরিবর্তনটি কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকেও সুবিধাজনক, কারণ কাগজের ব্যবহার হ্রাস পাবে।

ডেনমার্কের পোস্টাল নেটওয়ার্ক এখন পার্সেল ডেলিভারিতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে, যা ই‑কমার্সের বিস্তৃত চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশটি ইতিমধ্যে ইউরোপের অন্যতম দ্রুতগতির পার্সেল ডেলিভারি সিস্টেম গড়ে তুলছে, এবং ভবিষ্যতে এই সেবা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিজিটালাইজেশনকে ত্বরান্বিত করতে, ডেনমার্কের সরকার নতুন অনলাইন পরিষেবা চালু করছে, যার মধ্যে রয়েছে ই‑মেইল ভিত্তিক সরকারি মেইলবক্স, মোবাইল পেমেন্ট সিস্টেম এবং বিভিন্ন ই‑গভর্নমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন। এই উদ্যোগগুলো নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির সংহতি বাড়িয়ে তুলবে এবং কাগজের ব্যবহারকে আরও কমাবে।

ডেনমার্কের পোস্টনর্ডের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও আলো পেয়েছে, এবং বহু বিশ্লেষক এটিকে পোস্টাল শিল্পের রূপান্তরের একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও কিছু পুরনো পদ্ধতির সমাপ্তি নিয়ে নস্টালজিয়া রয়েছে, তবে ডিজিটাল যুগের চাহিদা মেটাতে এই পরিবর্তনটি অপরিহার্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, ডেনমার্কের ৪০১ বছরের চিঠি পরিষেবা বন্ধ হওয়া দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি স্বাভাবিক ফলাফল। পোস্টনর্ড এখন পার্সেল ডেলিভারি ও ই‑কমার্স সেবায় মনোযোগ দিয়ে, ভবিষ্যতে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments