কানাডার লেখক র্যাচেল রিড, বয়স পঁয়তাল্লিশ, গ্রীষ্ম ২০২৩-এ পার্কিনসন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বই সিরিজ “হিটেড রাইভাল্রি”-এর টিভি রূপান্তরের প্রস্তাব পান। একই সময়ে সিরিজের গল্প, দুইজন আইস হকি খেলোয়াড়ের গোপন সমলিঙ্গ সম্পর্ক, টেলিভিশনে রূপান্তরিত হওয়ায় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
রিড ২০১৮ সালে “গেম চেঞ্জারস” সিরিজের প্রথম বই প্রকাশ করেন এবং পরবর্তী পাঁচটি খণ্ডে একই থিমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। তার কাজের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেটফ্লিক্স-সদৃশ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে টিভি সংস্করণ তৈরি হয়, যা উত্তর আমেরিকায় নভেম্বরের শেষ দিকে সম্প্রচারিত হয়।
টিভি সিরিজটি প্রকাশের পর দ্রুতই সমালোচক ও দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, বিশেষ করে সমলিঙ্গ সম্পর্কের সূক্ষ্ম চিত্রায়ন ও আইস হকি জগতের পটভূমি নিয়ে। সিরিজের পরিচালক জ্যাকব টিয়ারনি, তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃশ্যমানতার জন্য প্রশংসা পান।
শোটি যুক্তরাজ্যে ১০ জানুয়ারি স্কাই ও নাও স্ট্রিমিং সেবার মাধ্যমে প্রচারিত হবে, যা রিডের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেবে। টিভি সাফল্যের ফলে রিডের পার্কিনসন রোগের চিকিৎসা সংক্রান্ত নতুন দরজা খুলে যায়।
শোটি প্রচারিত হওয়ার পর একটি আন্তর্জাতিক পার্কিনসন রোগের বিশেষজ্ঞ রিডের রোগ নির্ণয় সম্পর্কে জানেন এবং সরাসরি যোগাযোগ করেন। বিশেষজ্ঞের প্রস্তাবের ফলে রিডকে একজন নিউরোলজিস্টের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারিত হয়, যা তার বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ দেয়।
রিড আগে থেকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ছোট গ্রামাঞ্চলে বসবাসের কারণে পাঁচ বছরের অপেক্ষা তালিকায় আটকে ছিলেন এবং বিশেষজ্ঞের সেবা পেতে পারেননি। এখন নতুন সংযোগের মাধ্যমে তিনি দ্রুতই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যা তার রোগের অগ্রগতি ও জীবনমানের উন্নতিতে সহায়ক হবে।
নতুন নিউরোলজিস্টের পরামর্শে রিডের ওষুধের ডোজ ও সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়, যাতে তিনি রাতে ঘুমাতে পারেন। পূর্বে রিড ঘুমের সমস্যায় ভুগছিলেন, কিন্তু ওষুধের সামঞ্জস্যের ফলে তিনি এখন গভীর নিদ্রা পেতে শুরু করেছেন। এই পরিবর্তন তার দৈনন্দিন কাজের গতি ও সৃজনশীল উৎপাদনশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদী।
রিডের মতে, টিভি সিরিজের জনপ্রিয়তা এবং মিডিয়ার দৃষ্টি তার স্বাস্থ্যসেবার পথে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, শোয়ের প্রচারকালে জ্যাকব টিয়ারনি সিএনএনে উপস্থিত ছিলেন, এবং সাক্ষাৎকারে পার্কিনসন রোগের কথা উঠে এলে, পরের দিনই বিশ্বখ্যাত পার্কিনসন রোগের বিশেষজ্ঞ রিডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এই ঘটনাটি দেখায় কীভাবে শিল্পকর্মের সাফল্য কখনো কখনো অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবার উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে। রিডের গল্পটি রোগী ও চিকিৎসা ক্ষেত্রের জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ প্রেরণা, যেখানে সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং বাস্তবিক সহায়তা উভয়ই সম্ভব।



