মিয়ানমার জাতীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জাও মিন টুন ৫২ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি জানিয়ে ভোটকে “সফল” বলে বর্ণনা করেছেন। এই ভোট ২০২৪ সালের শেষ রবিবার অনুষ্ঠিত হয়, যখন দেশটি সামরিক ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছয় মিলিয়নের বেশি নাগরিকের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ভোট দিয়েছেন, যদিও ভোটদান কেবল ৩৩০টি টাউনশিপের এক তৃতীয়াংশে সীমাবদ্ধ ছিল।
মিন টুনের মতে, প্রথম পর্যায়ে ৫২ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি দেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য এবং এটি সামরিক শাসনের বৈধতা জোরদার করার লক্ষ্যে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, উন্নত গণতান্ত্রিক দেশেও কখনো কখনো ভোটার উপস্থিতি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাই মিয়ানমারের এই ফলাফলকে গর্বের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন।
প্রো-সামরিক ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (USDP) এই পর্যায়ে বিশাল জয় দাবি করেছে। পার্টির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের নেতৃত্বে গঠিত USDP নিম্নসভার অধিকাংশ আসন জয় করে, যার অংশীদারিত্ব ৮০ শতাংশেরও বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অধিকাংশ মানবাধিকার সংস্থা এবং পশ্চিমা কূটনীতিকরা এই ভোটকে “নকল” বলে সমালোচনা করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, সামরিক শাসনের ব্যাপক দমনমূলক নীতি এবং সমালোচনামূলক দলগুলোর অংশগ্রহণের অস্বীকৃতি ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভল্কার টার্ক ২৩ ডিসেম্বর মন্তব্য করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মতপ্রকাশ, সমাবেশ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত নয়, ফলে জনগণের স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণের কোনো শর্তই পূরণ হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, চলমান সহিংসতা ও দমনমূলক পরিবেশে এই ধরনের নির্বাচনকে বৈধ বলা যায় না।
তুলনামূলকভাবে, ২০২০ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল, যা বর্তমান ফলাফলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ৫২ শতাংশ উপস্থিতি পূর্বের তুলনায় কম এবং এটি ভোটারদের মধ্যে অবিশ্বাসের ইঙ্গিত হতে পারে।
সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের মতে, এই ফলাফল দেশের গর্বের বিষয় এবং সরকার নয়, পুরো জাতি ও জনগণের বিজয় হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের সফলতা মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
প্রথম পর্যায়ে ভোটদান কেবল প্রায় এক তৃতীয়াংশ টাউনশিপে সীমাবদ্ধ ছিল, কারণ বহু অঞ্চল সামরিক ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান লড়াইয়ের কারণে পৌঁছানো কঠিন। পরবর্তী দুই ধাপের ভোট ১১ জানুয়ারি এবং ২৫ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে, যা মোট ২৬৫টি টাউনশিপকে অন্তর্ভুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি পরবর্তী পর্যায়েও একই রকম ভোটার উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনা বজায় থাকে, তবে মিয়ানমারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। তবে সামরিক শাসন এই ফলাফলকে তার শাসনধারার বৈধতা বাড়াতে ব্যবহার করতে পারে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



