18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি২০২৫ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মিডিয়া দমন বৃদ্ধি পেয়েছে: MSF রিপোর্ট

২০২৫ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মিডিয়া দমন বৃদ্ধি পেয়েছে: MSF রিপোর্ট

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (DRU) তে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (MSF) ২০২৫ সালের রাজনৈতিক সহিংসতা, গোষ্ঠী আক্রমণ, কারাবন্দি মৃত্যুর সংখ্যা এবং সাংবাদিকদের ওপর বাড়তি চাপের বিশদ তথ্য প্রকাশ করেছে। ফাউন্ডেশন উল্লেখ করেছে যে, এই বছর দেশের গণতান্ত্রিক স্থান ক্রমাগত সংকুচিত হয়েছে এবং আইন প্রয়োগে জবাবদিহিতা যথেষ্ট না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এই বিশ্লেষণ দেশীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর উপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে।

MSF এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৫৯৯টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে, যার ফলে ৫,৬০৪ জন মানুষ প্রভাবিত হয়েছে। এ ঘটনায় ৮৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং ৫,৫১৮ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে ৯৭ জন গুলিবিদ্ধ। এই সংখ্যা পূর্বের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ফাউন্ডেশন দাবি করে যে, এই পরিসংখ্যান দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি ফলাফল।

মৃতদেহের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬৫ জন নিহত ব্যক্তি বিএনপি সদস্য, আটজন আওয়ামী লীগ সদস্য, তিনজন জামায়াত-ই-ইসলামি সদস্য এবং দশজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্যরা সহিংসতার শিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, গুলিবিদ্ধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যা গুলিবিদ্ধ আক্রমণের তীব্রতা নির্দেশ করে। এ ধরনের ক্ষতি রাজনৈতিক সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে।

নির্বাচন তারিখ ঘোষিত হওয়ার পর, নামিনেশন ও প্রচারণা সংক্রান্ত ২৬টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২৫২ জনকে প্রভাবিত করেছে। এ ঘটনায় তিনজন নিহত এবং ২৪৯ জন আহত হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এই আক্রমণগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে, নির্বাচনী সময়কালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের ওপর ১৬৯টি আক্রমণ ঘটেছে, যার ফলে ৪৭ জন নিহত এবং ১৮৭ জন আহত হয়েছে। এই আক্রমণগুলো প্রধানত দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে ঘটেছে। ফলে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

সেই বছর সরকার পতন এবং জুলাই-আগস্ট মাসের ব্যাপক প্রতিবাদ সংক্রান্ত ৬৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোতে মোট ৭,৭৮০ জন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, আর ১১,১৭৯ জন অপরিচিত ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মামলাগুলোর সংখ্যা ও বিস্তৃতি দেখায় যে, আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যাপকতা ও জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগের কারণ।

আওয়ামী লীগ ও তার সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর, ফাউন্ডেশন জানিয়েছে যে ৩,৬৯৫ জন নেতা ও কর্মী গ্রেফতার হয়েছে। এই গ্রেফতারগুলো মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং সরকার পতনের সঙ্গে যুক্ত মামলায় করা হয়েছে। গ্রেফতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে রাজনৈতিক দলীয় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে, রাজনৈতিক বহুমুখিতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হ্রাস পাচ্ছে।

ফাউন্ডেশন ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে যৌথ বাহিনীর একটি বৃহৎ অভিযানকে উল্লেখ করেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় এবং ব্যাপক গ্রেফতার ঘটিয়েছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে নিরাপত্তা হুমকি নির্মূল করা বলা হলেও, মানবাধিকার সংস্থা এটিকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে দেখেছে। অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র এবং সাধারণ নাগরিক অন্তর্ভুক্ত। এই ধরনের অভিযান দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার নীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় প্রশ্ন তুলেছে।

সাইবার সিকিউরিটি আইন ও সংশ্লিষ্ট আদেশের ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ওপর মামলা দায়েরের সংখ্যা বাড়ছে। ফাউন্ডেশন জানিয়েছে যে, এই আইনগুলো মূলত অনলাইন তথ্যের নিয়ন্ত্রণের জন্য গৃহীত হলেও, তা প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করছে। ফলে, সাংবাদিকরা আত্মসচেতন হয়ে কাজ করছেন এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা পাচ্ছেন। এই প্রবণতা স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপগুলোকে দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা দাবি করে যে, গোষ্ঠী আক্রমণ ও অবৈধ তথ্যের বিস্তার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ অপরিহার্য। তবে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই যুক্তিকে অতিরিক্ত দমনমূলক নীতি হিসেবে সমালোচনা করছে। এই দ্বন্দ্বের ফলে নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি সূক্ষ্ম সমন্বয় প্রয়োজন।

বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সরকারকে রাজনৈতিক দমন ও আইনের অপব্যবহার হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। তারা দাবি করে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ দরকার। এছাড়া, গ্রেফতারকৃত রাজনৈতিক কর্মীদের দ্রুত মুক্তি ও ন্যায়বিচার দাবি করা হচ্ছে। এই দাবিগুলো রাজনৈতিক সংলাপের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।

বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সহিংসতা কমাতে আইনি কাঠামোর সংস্কার, স্বাধীন মিডিয়ার সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করছেন। যদি এই পদক্ষেপগুলো না নেওয়া হয়, তবে ২০২৬ সালে আরও বেশি গোষ্ঠী আক্রমণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই, সরকার, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। শেষ পর্যন্ত, দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য এই বিষয়গুলো সমাধান করা অপরিহার্য।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments