ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ মিটিংয়ের মিনিট প্রকাশের পর দেখা গেছে, বেশিরভাগ নীতিনির্ধারকই মুদ্রাস্ফীতি শীতল হলে অতিরিক্ত সুদের কাটার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তবে ডিসেম্বরে করা সর্বশেষ হ্রাসের পরে কিছু সদস্যই সুদ “কিছু সময়ের জন্য অপরিবর্তিত” রাখার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন।
সদস্যদের ভোটে ৯-৩ অনুপাতেই সুদকে এক চতুর্থ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে ৩.৫০ শতাংশ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের সীমায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কয়েকজন সদস্যের মন্তব্য রয়েছে যে সিদ্ধান্তটি “সুনির্দিষ্টভাবে ভারসাম্যপূর্ণ” ছিল এবং তারা বিকল্পভাবে সুদ অপরিবর্তিত রাখতেও পারতেন।
মিনিটে স্পষ্ট হয়েছে যে নীতিনির্ধারকরা শ্রমবাজারের দুর্বলতা ও মুদ্রাস্ফীতির স্থায়িত্বের ঝুঁকির মধ্যে সূক্ষ্ম সমন্বয় বজায় রাখছেন। অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত করতে সুদের হ্রাসের প্রয়োজন এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উচ্চ সুদের হার বজায় রাখার প্রয়োজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে।
ডিসেম্বরে চিকাগো ফেডের প্রেসিডেন্ট অস্ট্যান গুলসবি এবং কানসাস সিটি ফেডের প্রেসিডেন্ট জেফ্রি শ্মিড দুজনই সুদ অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে ফেডের গভর্নর স্টিফেন মিরান বড়, অর্ধ শতাংশের হ্রাসের পক্ষে মত দেন। এ ধরনের মতবিরোধ সুদের নীতি নির্ধারণে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে তুলে ধরে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, সদস্যরা ২০২৬ সালে আরেকটি হ্রাসের সম্ভাবনা রেখেছেন, তবে ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েল ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তা কয়েক মাসের মধ্যে বাস্তবায়িত নাও হতে পারে। এই সতর্কতা বাজারে সুদের হ্রাসের গতি ধীর হতে পারে বলে ধারণা জাগিয়ে তুলেছে।
মিনিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে মুদ্রাস্ফীতি স্বল্পমেয়াদে “কিছুটা উঁচু” থাকবে, তবে ধীরে ধীরে দুই শতাংশের লক্ষ্য অর্জনের দিকে অগ্রসর হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি মুদ্রাস্ফীতির দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা সম্পর্কে স্পষ্টতা প্রদান করে, যদিও তা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত নয়।
ট্যারিফের প্রভাব নিয়ে কিছু সদস্যের উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে ট্যারিফের ফলে পণ্যের মূল্যে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা কখন কমবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা মূল্যে কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনও অনিশ্চিত। এই অনিশ্চয়তা মুদ্রাস্ফীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে অতিরিক্ত ঝুঁকি যোগ করে।
কিছু বিশ্লেষকও সতর্ক করেছেন যে মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি স্থায়ী হতে পারে, যা অতিরিক্ত হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলতে পারে। শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক সূচকগুলো হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে তা কতটা স্থায়ী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, সুদের হ্রাসের সম্ভাবনা এবং ট্যারিফের প্রভাবের অনিশ্চয়তা শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদের হার পরিবর্তন সরাসরি ঋণ খরচ ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে। তাই নীতিনির্ধারকদের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, ফেডের সর্বশেষ মিনিটে সুদের হ্রাসের সম্ভাবনা, ট্যারিফের প্রভাব এবং মুদ্রাস্ফীতির স্থায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সুদের হার স্থিতিশীল রাখার ও হ্রাসের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট, যা আর্থিক বাজারে সতর্কতা বজায় রাখবে।



