ইরানের সর্বোচ্চ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মোবাহেদি-আজাদ বুধবার ঘোষণা করেছেন যে মুদ্রা পতন ও তীব্র মন্দার কারণে তেহরানে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ যদি নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করে, তবে সরকার দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে জীবিকাভিত্তিক প্রতিবাদ স্বাভাবিক ও সামাজিক চাহিদা, তবে কোনো গোষ্ঠী যদি তা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে রূপান্তর করে, তবে তা অবিলম্বে দমন করা হবে।
প্রতিবাদগুলো রবিবার তেহরানের জোমহুরি এলাকার দুইটি প্রধান মোবাইল ও টেক শপিং সেন্টার ও গ্র্যান্ড বাজারের নিকটবর্তী দোকানদারদের দ্বারা শুরু হয়। রিয়াল ডলারের তুলনায় রেকর্ড নিম্ন স্তরে নেমে যাওয়ায় তারা ব্যবসা বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসে। এরপর মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিবাদ তেহরান ছাড়িয়ে ইসফাহান, ইয়াজদ ও জাঞ্জানের মতো শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
তেহরানে ছাত্ররা রাস্তায় নেমে শেয়ার বাজারের দামের উত্থান ও মুদ্রা অবমূল্যায়নের বিরোধিতা করে। একই সময়ে ইসফাহান, ইয়াজদ ও জাঞ্জানের বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও প্রতিবাদ দেখা যায়। শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ইলনা সংস্থা জানায় যে দেশের দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যার মধ্যে তেহরানের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত, ছাত্ররা প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে।
প্রতিবাদগুলো তেহরানের জোমহুরি এলাকার দুইটি প্রধান টেক শপিং সেন্টার ও গ্র্যান্ড বাজারের নিকটবর্তী দোকানদারদের দ্বারা রবিবার বন্ধ করা ব্যবসা থেকে শুরু হওয়ায়, এটি তৃতীয় ধারাবাহিক দিন ধারাবাহিক প্রতিবাদ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা সরকারকে উদ্বিগ্ন করেছে, ফলে প্রসিকিউটর আজাদের কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন গত বছর থেকে দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের ফলে রিয়ালের মান এক ডলারে প্রায় ১.৪২ মিলিয়ন রিয়াল পৌঁছেছে, যা এক বছর আগে ৮২০,০০০ রিয়ালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই আর্থিক সংকটের ফলে দেশের অর্থনীতি বহু বছর ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের মুখে রয়েছে।
প্রসিকিউটরের মন্তব্যের পর সরকারী সংস্থা ইআরএনএ (ইরান রেডিও ও নিউজ এজেন্সি) জানিয়েছে যে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করা কোনো গোষ্ঠীকে আইনগতভাবে কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে অর্থনৈতিক প্রতিবাদকে যদি কোনো বাহ্যিক শক্তি ব্যবহার করে অশান্তি সৃষ্টির হাতিয়ার বানানো হয়, তবে তা অবিলম্বে দমন করা হবে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে সরকার যদি এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তা সাময়িকভাবে প্রতিবাদ দমন করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান না হলে জনমত আরও তীব্র হতে পারে। তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখনো কোনো নির্দিষ্ট আইনগত পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি, তবে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ আইন প্রণয়নের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানি হ্রাস এবং মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা উল্লেখ করা হচ্ছে। তেহরানের সরকার ইতিমধ্যে কিছু আর্থিক নীতি পরিবর্তন করেছে, তবে রিয়ালের অবমূল্যায়ন থামাতে তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া দোকানদার ও ছাত্রদের দাবি মূলত রিয়ালের স্থিতিশীলতা, মুদ্রা বিনিময় হার ও মৌলিক জীবিকা নিশ্চিত করা। তারা দাবি করে যে সরকার দ্রুত অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করে মুদ্রা বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনার পদক্ষেপ নেবে।
প্রসিকিউটরের সতর্কবার্তা এবং সরকারের সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে কিনা, তা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াবে। যদি নিরাপত্তা হুমকি না থাকে, তবে সরকার সম্ভবত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে স্বীকৃতি দিয়ে অর্থনৈতিক নীতি সংশোধনে মনোযোগ দেবে। অন্যথায়, আইনগত শাস্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়ে প্রতিবাদ দমন করা হতে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চিত্রকে প্রভাবিত করবে।



